রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে প্রত্যাশিত সাফল্যের পর এখন উল্লাসের আমেজ ছাপিয়ে কংগ্রেস শিবিরে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে— রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? এই একটি সিদ্ধান্ত নিতে গিয়েই কার্যত নাজেহাল দশা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের। দফায় দফায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক, ম্যারাথন আলোচনা— সব মিলিয়ে চব্বিশ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও মেলেনি চূড়ান্ত সমাধান।
সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি কার দখলে যাবে, তা নিয়ে দলের অন্দরে চলছে তীব্র দড়ি টানাটানি। একদিকে অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রাখতে চাইছেন হাইকম্যান্ডের একাংশ, অন্যদিকে তরুণ তুর্কী ও জনভিত্তি থাকা নেতার সমর্থনেও সোচ্চার হয়েছে বড় একটি গোষ্ঠী। দুই শিবিরের অনড় মনোভাবের কারণে কোনো একটি নির্দিষ্ট নামে সিলমোহর দিতে হিমশিম খাচ্ছেন মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধীরা।
দিল্লি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের রাজনৈতিক অলিন্দে এখন শুধুই জল্পনা। গত রাত থেকে চলা দীর্ঘ বৈঠকে একাধিক সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, শীর্ষ নেতৃত্ব ঐক্যমত্য তৈরির চেষ্টা করলেও তাতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে গোষ্ঠীকোন্দল। হাইকম্যান্ডের পক্ষ থেকে নিয়োগ করা পর্যবেক্ষকরা বিধায়কদের সাথে আলাদাভাবে কথা বলে তাঁদের গোপন মতামত নিয়েছেন ঠিকই, কিন্তু সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখার পরেও জট কাটছে না।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিলম্ব দলের ভাবমূর্তির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেখানে দ্রুত সরকার গঠন করে জনমতকে সম্মান জানানো প্রয়োজন, সেখানে ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা যেন বড় হয়ে না দাঁড়ায়, সেটাই এখন হাইকমান্ডের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও কংগ্রেস সদর দপ্তরে সাজসাজ রব রয়েছে ঠিকই, কিন্তু চূড়ান্ত নাম ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত স্বস্তি ফিরছে না হাত শিবিরে। এখন দেখার, দিল্লির এই হাইভোল্টেজ নাটকের শেষ অংক কী হয় এবং কার ভাগ্যে শিকে ছেঁড়ে।





