বুধবার সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক (I-PAC) সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এক অত্যন্ত কঠোর ও সুদূরপ্রসারী পর্যবেক্ষণ করল শীর্ষ আদালত। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) দায়ের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ আজ যে মন্তব্য করেছেন, তা রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আদালতের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ: শুনানি চলাকালীন বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তদন্তকারী সংস্থাকে যদি একজন মুখ্যমন্ত্রী নিজে উপস্থিত থেকে বাধা দেন, তবে তা বিচারব্যবস্থার জন্য এক ভয়াবহ নজির তৈরি করবে। আদালতের পর্যবেক্ষণ—
“আজ যদি এই ঘটনাকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে অন্য কোনো রাজ্যের অন্য কোনো মুখ্যমন্ত্রীও একই কাজ করবেন। সেক্ষেত্রে তদন্তকারী সংস্থাগুলো কি কেবল মূক দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে? আইনকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে হবে।”
মামলার প্রেক্ষাপট: ঘটনার সূত্রপাত গত জানুয়ারি মাসে। কয়লা পাচার কাণ্ডের তদন্তে কলকাতার আইপ্যাক অফিসে হানা দিয়েছিল ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে সেখানে উপস্থিত হয়ে তল্লাশিতে বাধা দেন এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও নথিপত্র সরিয়ে ফেলেন। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি।
রাজ্যের পাল্টা যুক্তি: রাজ্য সরকারের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবীরা দাবি করেন, ইডির এই আবেদনের কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তাঁদের মতে, ইডি কোনো ব্যক্তি নয় যে তারা অনুচ্ছেদ ৩২-এর অধীনে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে আসতে পারে। রাজ্য আরও অভিযোগ করেছে যে, নির্বাচনের মুখে তৃণমূলের ‘গোপন কৌশল’ হাতানোর জন্যই আইপ্যাককে নিশানা করা হচ্ছে।
আইনি লড়াইয়ের ভবিষ্যৎ: আদালত আজ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তদন্তে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কোনোভাবেই কাম্য নয়। যদিও রাজ্য সরকার বাড়তি সময়ের আবেদন জানিয়েছিল, কিন্তু আদালত তা খারিজ করে দিয়ে আগামী ২৪ মার্চ, ২০২৬ পরবর্তী চূড়ান্ত শুনানির দিন ধার্য করেছে।