রণক্ষেত্রে যখন ট্যাঙ্কের গর্জন আর মিসাইলের আস্ফালন চলে, ঠিক তখনই পর্দার আড়ালে শুরু হয়েছে আরও এক ভয়াবহ যুদ্ধ— ‘ইনফরমেশন ওয়ার’ বা তথ্যযুদ্ধ। সম্প্রতি গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং সাইবার বিশেষজ্ঞদের দাবিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে যে, আমেরিকা ও ইজরায়েলের মতো মহাশক্তিকে মোকাবিলা করতে ইরান এখন সরাসরি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) এবং সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এই ডিজিটাল রণকৌশলের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিপক্ষের দেশে জনমত বিগড়ে দেওয়া এবং ভুয়া তথ্যের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করা।
কীভাবে কাজ করছে ইরানের এই এআই বাহিনী? বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান কয়েক হাজার ‘বট’ বা ভুয়া সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছে, যা সাধারণ মানুষের মতো আচরণ করে। এই অ্যাকাউন্টগুলো থেকে এআই-এর মাধ্যমে তৈরি করা অত্যন্ত উন্নত মানের ভিডিও এবং ছবি শেয়ার করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, সম্প্রতি ইজরায়েলের বিভিন্ন শহরে কাল্পনিক হামলার ভুয়া ছবি বা মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ ধ্বংস হওয়ার এআই-জেনারেটেড ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও ইরানকে ‘ডিজইনফরমেশন ওয়েপন’ ব্যবহারের দায়ে অভিযুক্ত করেছেন। শুধু তাই নয়, এআই ব্যবহার করে মার্কিন ও ইজরায়েলি সেনাদের ভুয়া ‘কান্নাকাটি’ বা ‘আত্মসমর্পণ’-এর দৃশ্য তৈরি করে সাধারণ মানুষের মনে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে তেহরান। এই ‘অ্যাসিম্যাট্রিক ওয়ারফেয়ার’ বা অপ্রতিসম যুদ্ধ এখন প্রথাগত যুদ্ধের চেয়েও বেশি মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পেন্টাগনের কাছে।