২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই দলের নেতা ও সাংসদদের জন্য কড়া অনুশাসন জারি করলেন তৃণমূলের ‘সেকেণ্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার একটি ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘ধীরে চলো’ নীতি নিয়ে চললে দলে জায়গা হবে না। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তিনি।
সাংসদদের কড়া হুঁশিয়ারি: “পকেটের টাকা খরচ করুন”
দলের সাংসদ ও বিধায়কদের কর্মতৎপরতা নিয়ে এদিন অসন্তোষ প্রকাশ করেন অভিষেক। তিনি কড়া ভাষায় বলেন:
-
ওয়ার রুম সক্রিয় করুন: অনেক সাংসদ এলাকায় ওয়ার রুম চালাচ্ছেন না। দরকারে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে ওয়ার রুম চালাতে হবে।
-
দিল্লিতে নয়, এলাকায় থাকুন: সাংসদরা সংসদে মাত্র ১-২ দিন যান, বাকি সময় নিজের নির্বাচনী এলাকায় মানুষের পাশে থাকতে হবে।
-
কাজ না করলে বিদায়: অভিষেক মনে করিয়ে দেন, দল চেয়েছে বলেই কেউ সাংসদ বা বিধায়ক হয়েছেন। দলের কাজ না করলে দলও তাঁদের পাশে দাঁড়াবে না।
ভোটরক্ষা কমিটি ও এসআইআর চ্যালঞ্জ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বিজেপি দিল্লি, হরিয়ানা বা মহারাষ্ট্রে যেভাবে ভোটার তালিকায় কারচুপি করেছে, পশ্চিমবঙ্গে তা হতে দেওয়া হয়নি। তাঁর বিশেষ নির্দেশ:
-
বুথভিত্তিক কমিটি: প্রতিটি বুথে ‘ভোটরক্ষা কমিটি’ গড়তে হবে। লক্ষ্য একটাই— একজনও যেন বৈধ ভোটার বাদ না পড়েন।
-
বাড়ি বাড়ি পৌঁছানো: ১ কোটি ৬৮ লক্ষ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে তৃণমূল কর্মীদের। প্রত্যেকের শুনানি (Hearing) করিয়ে চূড়ান্ত তালিকায় নাম নিশ্চিত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
-
আন্দোলনের ডাক: রবিবার রাজ্যের ব্লকে ব্লকে ধিক্কার মিছিল এবং নির্বাচন কমিশনে প্রতিনিধি দল পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
কমিশনকে আক্রমণ: “৭০-৮০ দিনে ১২৬ জনের মৃত্যু”
এসআইআর প্রক্রিয়ার অব্যবস্থাপনা নিয়ে অভিষেক বলেন, “অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এই অপরিকল্পিত প্রক্রিয়ার জন্য ৭০-৮০ দিনে ১২৬ জন মারা গিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট ৭২ ঘণ্টার ডেডলাইন দিলেও কমিশন এখনও ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র তালিকা প্রকাশ করেনি।” তিনি আরও জানান, হোয়াটসঅ্যাপে সরকার চলে না, কাজ করতে হবে মাঠে নেমে।
তৃণমূলের এই হার্ডলাইন বার্তা বুঝিয়ে দিচ্ছে, ২০২৬-এর লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমিও বিজেপিকে ছাড়তে নারাজ জোড়াফুল শিবির।