উপহার বা ‘সারপ্রাইজ’ মানেই সাধারণত আনন্দ। কিন্তু এক ইঞ্জিনিয়ার যুবকের কাছে সেই সারপ্রাইজের অর্থ ছিল নিজের যমজ বোনের রক্তাক্ত মৃতদেহ! উত্তরপ্রদেশের মোরাদাবাদে এক হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডে স্তম্ভিত গোটা দেশ। নিজের যমজ বোনকে ৮৪ বার ছুরির কোপে ঝাঁঝরা করে দেওয়ার পর মাকেও খুনের চেষ্টা করল গুণধর ছেলে।
খুনির চোখে ‘সারপ্রাইজ’: ২৫ বছরের অভিযুক্ত যুবক হার্দিক পেশায় একজন ইঞ্জিনিয়ার। পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে নিজের যমজ বোন হিমাশিখাকে নৃশংসভাবে খুন করে সে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখা গেছে, বোনের শরীরে মোট ৮৪টি গভীর ক্ষত রয়েছে। বোনকে খুনের পর হার্দিক শান্ত মাথায় মায়ের অফিসে যায় এবং তাঁকে বলে, “মা, চলো বাড়ি যাই, তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে।” মা নীলিমা দেবী বাড়ি ফিরে মেয়ের রক্তাক্ত দেহ দেখে চিৎকার করতেই তাঁর ওপরও ঝাঁপিয়ে পড়ে হার্দিক।
বিবাদের মূলে ‘প্রেম ও ক্যারিয়ার’: তদন্তে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গুরুগ্রামে কর্মরত হার্দিক গত দেড় বছর ধরে কর্মহীন ছিল। এই সময়েই পুনের এক ভিন্নধর্মী তরুণীর সঙ্গে সমাজমাধ্যমে তার পরিচয় ও প্রেম হয়। হার্দিক তাঁকে বিয়ে করতে চাইলেও বাধা দেন মা ও বোন। তাঁরা হার্দিককে প্রথমে নিজের ক্যারিয়ারে মন দিতে বলতেন। বারবার কেরিয়ার নিয়ে খোঁচা এবং প্রেমে বাধা—এই দুইয়ের ক্ষোভ থেকেই চরম পথ বেছে নেয় সে।
সাইবার নেশা ও মানসিক বিকৃতি: পরিবারের দাবি, গত কয়েক মাস ধরে হার্দিকের আচরণে আমূল পরিবর্তন এসেছিল। সে সারারাত অনলাইন চ্যাটে ব্যস্ত থাকত এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলা কমিয়ে দিয়েছিল। ঘটনার দিন বোন হিমাশিখার সঙ্গে ক্যারিয়ার নিয়ে কথা কাটাকাটি শুরু হতেই রাগের মাথায় রান্নাঘর থেকে সবজি কাটার ছুরি নিয়ে সে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
পুলিশি তৎপরতা: আহত মা নীলিমা দেবী বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তিনি বিপদমুক্ত। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ অভিযুক্ত হার্দিককে গ্রেপ্তার করেছে। জেরায় সে নিজের অপরাধ কবুল করেছে। একজন উচ্চশিক্ষিত যুবকের এমন আদিম ও নৃশংস আচরণ দেখে হতবাক তদন্তকারীরাও।