২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের হাই-ভোল্টেজ ফলাফল ঘোষণা হতেই এক রহস্যময় ছবি ধরা পড়ল মালদা জেলায়। যে কার্যালয় কয়েকদিন আগেও কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে গমগম করত, সেই তৃণমূল জেলা কার্যালয় এখন জনশূন্য। ফল প্রকাশের দিন থেকেই গেটে ঝুলছে বড় বড় তালা। ১২টি আসনের এই জেলায় তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে সমানে-সমান লড়াই হলেও, কেন হঠাৎ এই ‘অজ্ঞাতবাস’, তা নিয়ে জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
মালদার পাটিগণিত: ৬ বনাম ৬ এবারের নির্বাচনে মালদা জেলায় এক চুল জমি ছাড়েনি কোনও পক্ষই। জেলার মোট ১২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস দখল করেছে ৬টি আসন, আর বাকি ৬টি গিয়েছে বিজেপির দখলে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় এবং বেশ কিছু হেভিওয়েট প্রার্থীর পরাজয়ে কার্যত ‘শকে’ রয়েছে স্থানীয় নেতৃত্ব। আর সেই হারের গ্লানি থেকেই কি কার্যালয়ে তালা? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মালদার অলিতে-গলিতে।
নেপথ্যে কি অন্য কোনও সমীকরণ? তালাবন্ধ কার্যালয় নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে দুটি মত উঠে আসছে:
কোন্দল ও ক্ষোভ: হারের পর নিচুতলার কর্মীদের বিক্ষোভ বা ক্ষোভের মুখে পড়ার ভয়েই হয়তো জেলা নেতৃত্ব আপাতত গা ঢাকা দিয়েছেন।
দলত্যাগের জল্পনা: বিধানসভা নির্বাচনের এই ফলাফলের পর অনেক নেতা কি অন্য কোনও শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন? কার্যালয় বন্ধ থাকা কি সেই আগাম ভাঙনের ইঙ্গিত?
বিজেপির কটাক্ষ এদিকে তৃণমূল কার্যালয় খাঁ খাঁ করতে দেখে সুর চড়িয়েছে গেরুয়া শিবির। স্থানীয় বিজেপি নেতাদের দাবি, “মানুষের রায় মেনে নেওয়ার ক্ষমতা নেই তৃণমূলের। মালদার মানুষ ওদের প্রত্যাখ্যান করেছে বুঝেই এখন অফিসে তালা দিয়ে নেতারা ঘরে ঢুকেছেন।”
তৃণমূল শিবিরের সাফাই যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের একটি অংশের দাবি, দীর্ঘ নির্বাচনের ধকল সামলে কর্মীরা আপাতত কিছুটা বিশ্রামে রয়েছেন। বিজয় মিছিল বা পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করতে খুব শীঘ্রই কার্যালয় খোলা হবে এবং স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে দল।
তবে কারণ যাই হোক না কেন, উৎসবের মরসুমে মালদার জেলা তৃণমূল কার্যালয়ের এই নিস্তব্ধতা এবং দরজায় ঝুলতে থাকা তালা যে এক গভীর রাজনৈতিক সংকটের বার্তাবাহক, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।





