২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই উত্তপ্ত মালদহের মাটি। একদিকে যখন শাসক দল জয়ের ধারা বজায় রাখতে মরিয়া, ঠিক তখনই মালদহ বিধানসভা আসনে পদ্ম ফোটাতে আসরে নামলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। বৃহস্পতিবার দুপুরে মালদহের শ্রীরামপুর এলাকায় বিজেপি প্রার্থী গোপাল চন্দ্র সাহার সমর্থনে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন তিনি।
উচ্ছ্বাসে ভাসল সিঙ্গাবাদ: এদিন দুপুর ৩টে নাগাদ মানিক সাহা সিঙ্গাবাদ বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছলে কয়েক হাজার বিজেপি কর্মী-সমর্থক তাঁকে পুষ্পবৃষ্টি করে বরণ করে নেন। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই প্রস্তুতি ছিল তুঙ্গে। কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল গোটা এলাকা। মঞ্চে ওঠার আগেই স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে হাসিমুখে সৌজন্য বিনিময় করেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী।
মানিক সাহার বক্তব্যের হাইলাইটস: মঞ্চ থেকে আক্রমণাত্মক মেজাজে মানিক সাহা রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর ভাষণের প্রধান দিকগুলো হলো:
ত্রিপুরা মডেলের প্রচার: তিনি দাবি করেন, ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার আসার পর উন্নয়নের গতি কয়েক গুণ বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষও সেই একই উন্নয়নের দাবিদার।
মালদহের সম্ভাবনা: মালদহ জেলা কৃষিনির্ভর ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সরকারি উদাসীনতায় এই জেলা পিছিয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় প্রকল্পের দাবি: মোদী সরকারের দেওয়া সুবিধাগুলো কেন বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছচ্ছে না, তা নিয়ে সরাসরি শাসক দলকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী।
ভোটের আগে শক্তিবৃদ্ধি: বিজেপি প্রার্থী গোপাল চন্দ্র সাহার হয়ে প্রচার করতে গিয়ে মানিক সাহা বলেন, “এবার পরিবর্তন কেবল সময়ের অপেক্ষা। মালদহের মানুষ আর প্রতারিত হতে চান না।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় মালদহে মানিক সাহার মতো নেতৃত্বকে প্রচারে আনা বিজেপির একটি সুপরিকল্পিত কৌশল। ওপার বাংলার সাথে মিল থাকা মালদহের জনবিন্যাসে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।





