চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা করার স্বপ্ন ছিল চোখে। অনেক লড়াই করে সুযোগ পেয়েছিলেন রাজ্যের নামী সরকারি মেডিক্যাল কলেজে। কিন্তু মাঝপথেই থমকে গেল সব। সেমিস্টার পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার গ্লানি সইতে না পেরে আত্মহননের পথ বেছে নিলেন এক মেডিক্যাল পড়ুয়া। সোমবার সকালে কলেজের হস্টেল থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ছাত্রের ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে, যেখানে বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি লিখেছেন— “সেমিস্টারে পাশ করতে পারলাম না, তোমাদের মুখ দেখাব কী করে?”
মৃত ছাত্রের নাম অনিমেষ দাস (নাম পরিবর্তিত)। তিনি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। সহপাঠীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর থেকে অনিমেষ মানসিকভাবে অত্যন্ত ভেঙে পড়েছিলেন। কারও সঙ্গে সেভাবে কথা বলছিলেন না। এদিন সকালে দীর্ঘক্ষণ তাঁর ঘরের দরজা না খোলায় বন্ধুদের সন্দেহ হয়। বারবার ডাকার পরেও সাড়া না মেলায় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে দেখে, সিলিং ফ্যান থেকে চাদরের সাহায্যে ঝুলছেন ওই ছাত্র। দ্রুত তাঁকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনা ফের একবার মেডিক্যাল শিক্ষার বিপুল মানসিক চাপ এবং পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল। চিকিৎসকদের একাংশের মতে, মেডিক্যালের পাঠ্যক্রম অত্যন্ত কঠিন এবং প্রতিযোগিতামূলক। এর ওপর যদি পরিবারের প্রত্যাশার চাপ থাকে, তবে অনেক সময় পড়ুয়ারা অবসাদে ডুবে যায়। অনিমেষের পরিবার এই খবর পাওয়ার পর শোকস্তব্ধ। তাঁর বাবা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “ওর রেজাল্ট নিয়ে আমাদের কোনো আক্ষেপ ছিল না, ও যে এমনটা করবে ভাবিনি।” পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। শিক্ষা মহলে এই মৃত্যু গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।