অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার (ASD) শনাক্তকরণে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে চলেছেন বিজ্ঞানীরা। ‘মলিকিউলার সাইকিয়াট্রি’ জার্নালে প্রকাশিত একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে যে, মূত্র পরীক্ষার মাধ্যমেই এখন মাত্র ২ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে অটিজমের সম্ভাব্য লক্ষণ শনাক্ত করা সম্ভব। বর্তমানে অটিজম নির্ণয় মূলত আচরণগত পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভরশীল, যা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। সেখানে এই নতুন জৈবিক পরীক্ষাটি অটিজম স্ক্রিনিংয়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অটিজমে আক্রান্ত এবং সাধারণ শিশুদের মূত্রের নমুনা বিশ্লেষণের সময় শরীরে অন্ত্রের অণুজীব সংক্রান্ত কিছু নির্দিষ্ট রাসায়নিক সংকেত ও জৈবিক চিহ্নে স্পষ্ট পার্থক্য ধরা পড়ছে। গবেষকদের মতে, অটিজমের ঝুঁকি শনাক্ত করতে এই পদ্ধতিটি অত্যন্ত নির্ভুল হতে পারে এবং এটি রক্ত পরীক্ষার মতো জটিলও নয়। মূত্রের নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে শরীর ও অন্ত্রের অণুজীবের কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করে এই রাসায়নিক সংকেতগুলো শনাক্ত করা হচ্ছে।
তবে, এটি মনে রাখা জরুরি যে এই প্রযুক্তিটি এখনও গবেষণা পর্যায়ে রয়েছে। এটি অটিজম নির্ণয়ের চূড়ান্ত কোনো মাধ্যম নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৃহত্তর পরিসরে আরও ট্রায়াল বা পরীক্ষার পরেই এটিকে নিয়মিত চিকিৎসা ব্যবস্থার অংশ করা সম্ভব হবে। তবুও, অটিজমের মতো জটিল অবস্থা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এই উদ্ভাবন এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে, যা অদূর ভবিষ্যতে লক্ষ লক্ষ পরিবারের জন্য সময়মতো বিশেষজ্ঞের পরামর্শ পাওয়ার পথ সুগম করবে।





