মাত্র ২০ টাকার অভিশাপ! ৩০ বছরের আইনি লড়াই জেতার কয়েক ঘণ্টাতেই নিথর পুলিশকর্মী

বিচার মিলল ঠিকই, কিন্তু সেই বিচার উপভোগ করার জন্য কয়েকটা মুহূর্তও সময় দিলেন না বিধাতা। মাত্র ২০ টাকার ঘুষের অপবাদ কাঁধে নিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর আদালতের চক্কর কেটেছিলেন পুলিশ কনস্টেবল বাবুভাই। গত বুধবার গুজরাত হাইকোর্ট তাঁকে সসম্মানে মুক্তি দেয়। কলঙ্কমুক্ত হওয়ার ঠিক পরের দিন সকালেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন ৬৪ বছর বয়সী এই লড়াকু মানুষটি। ন্যায়বিচার পাওয়ার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মাথায় এই মৃত্যু যেন এক চরম ট্র্যাজেডি।

১৯৯৬ সালের সেই অভিশপ্ত দিন: ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৬ সালের ২০ নভেম্বর। অভিযোগ ছিল, আমদাবাদে বেআইনিভাবে ট্রাক ঢোকানোর বিনিময়ে ২০ টাকা করে ঘুষ নিচ্ছিলেন তিন কনস্টেবল—বাবুভাই, সেবনকুমার রথওয়া এবং নাসরুল্লা খান। দুর্নীতি দমন শাখা ফাঁদ পেতে তাঁদের পাকড়াও করে। মাত্র ২০ টাকার বিনিময়ে কর্মজীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। ২০০৪ সালে নিম্ন আদালত তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করলে চাকরি চলে যায় তাঁদের।

৩০ বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াই: চাকরি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গিয়েছিলেন বাবুভাই। আমদাবাদ ছেড়ে পটনে নিজের গ্রামে ফিরে যান তিনি। কিন্তু হার মানেননি। নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দ্বারস্থ হন গুজরাত হাইকোর্টের। একের পর এক শুনানি পিছিয়েছে, কেটে গিয়েছে দু’টি দশক। তরুণ বয়সের সেই কনস্টেবল বাবুভাই আইনি লড়াই লড়তে লড়তে কখন ৬৪ বছরের বৃদ্ধ হয়ে গেলেন, তা টেরও পাননি কেউ।

মুক্তি মিলল, কিন্তু জীবন রইল না: অবশেষে গত বুধবার বিচারপতি এসভি পিন্টো রায় দেন যে, ওই তিন কনস্টেবলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাঁদের বেকসুর খালাস করা হয়। খবরটি পাওয়ামাত্রই বাবুভাই ছুটে গিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবী নিতিন গাঁধীর কাছে। আনন্দে চোখের জল ফেলে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন তাঁকে। কিন্তু সেই রাতই ছিল তাঁর জীবনের শেষ রাত। বৃহস্পতিবার ভোরে ঘুমের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি। আইনজীবীর কথায়, “বাবুভাই খুবই খুশি ছিলেন। হারানো সম্মান ফিরে পাওয়ায় তাঁর বকেয়া বেতন ও পেনশন পাওয়ার পথ পরিষ্কার হয়েছিল। কিন্তু সব পাওয়ার মুহূর্তে এভাবে তাঁর চলে যাওয়া মেনে নেওয়া যাচ্ছে না।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy