মাটির নিচে লুকিয়ে বিশাল ভাণ্ডার? ভারতের তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নজিরবিহীন উদ্যোগ মোদি সরকারের

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক। পুরনো ভূগর্ভস্থ তথ্যের আধুনিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশের মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন ভাণ্ডার অনুসন্ধানে ভারত সরকার বড়সড় প্রকল্পের ডাক দিয়েছে। সোমবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে।

সরকারের এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো, বহু দশক আগে সংগৃহীত ভূতাত্ত্বিক ও সিসমিক ডেটাগুলিকে আজকের অত্যাধুনিক ইমেজিং এবং এআই-চালিত বিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুনরায় পরীক্ষা করা। সরকারের বিশ্বাস, আগের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সম্ভাব্য তেলের খনি সেসময় নজর এড়িয়ে গিয়েছিল, যা নতুন বিশ্লেষণে ধরা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের প্রযুক্তিগত শাখা ‘ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ হাইড্রোকার্বনস’ (DGH) এই পুরো প্রক্রিয়ায় তদারকি করবে।

মূলত ভারতের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলগুলোকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। পূর্ণিয়া ও মহানদী বেসিন, কৃষ্ণা-গোদাবরী বেসিন, কাবেরী বেসিন এবং আন্দামান সাগরের পূর্ব দিকের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে চালানো হবে এই বিশাল ভূ-তাত্ত্বিক সমীক্ষা। বিশেষজ্ঞ সংস্থাগুলিকে সমুদ্রতলের গভীরে থাকা হাইড্রোকার্বনের মানচিত্র তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে সেখানে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়।

সিসমিক সমীক্ষা হলো অনেকটা ভূগর্ভের ‘মেডিক্যাল স্ক্যান’-এর মতো। এতে শব্দ তরঙ্গ মাটির গভীরে পাঠিয়ে তার প্রতিধ্বনি বিশ্লেষণ করে মাটির নিচের গঠন বুঝতে পারা যায়। বর্তমানে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক কম্পিউটিং ও ডেটা প্রসেসিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাটির অনেক গভীরে লুকানো খনিজ সম্পদের স্পষ্ট চিত্র পাওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে ভারত তার মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের অস্থিরতা বা ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা সবসময়ই ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নতুন এই সমীক্ষা সফল হলে আমদানির ওপর চাপ কমবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিও মজবুত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকার চাইছে, দেশীয় প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতের নিজস্ব জ্বালানি সম্পদকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যেতে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy