দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘সেবাশ্রয়’ মডেল। সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছিল, যা রাজ্যজুড়ে ব্যাপক প্রশংসাও কুড়িয়েছিল। তবে সেই ‘সেবাশ্রয়’-এর নাম জড়াল এক ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগে। অভিযোগ উঠেছে, কোটি কোটি টাকার ওষুধ রোগীদের না দিয়ে মাটির নিচে পুঁতে নষ্ট করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে ডায়মন্ড হারবারের হিংচেবেড়িয়া এলাকায় মাটির নিচ থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধারের ঘটনায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার বিকেলে। বিজেপি কর্মীদের দাবি, গোপন সূত্রে তাঁরা খবর পান যে হিংচেবেড়িয়ার একটি নির্দিষ্ট স্থানে বিপুল পরিমাণ ওষুধ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে। এরপর বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে জেসিবি মেশিন দিয়ে মাটি খুঁড়তে শুরু করেন। মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে একের পর এক কার্টন ভর্তি ওষুধ। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই ওষুধগুলো মূলত ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পের ব্যবহারের জন্য ছিল। কিন্তু রোগীদের হাতে না পৌঁছে সেগুলো মাটির নিচে কেন পুঁতে ফেলা হলো, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। শুধু তাই নয়, কোটি টাকার এই ওষুধ কীভাবে সেখানে পৌঁছাল এবং এর পেছনে কোন কালো টাকার কারবার জড়িত কি না, তা নিয়েও তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধিরা। বর্তমানে ডায়মন্ড হারবারের এই ঘটনায় মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়কের দিকে আঙুল তুলেছে বিজেপি। দলের পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি ড্রাগ কন্ট্রোলের নজরে আনা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা স্বাস্থ্য দফতর এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
বিজেপি নেতা উত্তম বাগ এই বিষয়ে অভিযোগ করে বলেন, “গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানাই। এরপর যা দেখা গেল, তা নজিরবিহীন। ভারতে এমন ঘটনা আগে কেউ দেখেনি। মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া ওষুধের মেয়াদ এখনও এক-দু’বছর বাকি রয়েছে। সাধারণ অসহায় মানুষের জীবনদায়ী ওষুধটুকুও ছাড়ল না তৃণমূল পরিচালিত এই প্রকল্প।”
তৃণমূলের দাবি, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের পাল্টা দাবি, স্বাস্থ্য পরিষেবার নাম করে সাধারণ মানুষের চোখের সামনে ওষুধ না দিয়ে সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অমানবিক এবং বড়সড় আর্থিক কেলেঙ্কারি। উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলো সরকারি কি না, সেটির মেয়াদ শেষ হয়েছে কি না, নাকি স্রেফ দুর্নীতির তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতেই এগুলো পুঁতে রাখা হয়েছিল—এই সব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ। তবে কোটি টাকার এই ওষুধের ভাণ্ডার উদ্ধারের পর ‘সেবাশ্রয়’ মডেলের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। ঘটনার তদন্তে স্বাস্থ্য দফতর কী রিপোর্ট দেয়, এখন সেই দিকেই তাকিয়ে পুরো রাজ্য।





