সারাদিনের খাটুনির পর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন আপনি। ঠিক সেই সময় হঠাৎ পায়ের মাংসপেশিতে অসহ্য টান বা ‘ক্র্যাম্প’। ব্যথায় প্রাণ ওষ্ঠাগত, পা নাড়ানোর ক্ষমতাটুকুও থাকে না। অনেক সময় এই যন্ত্রণা দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হয়। আমাদের মধ্যে অনেকেরই রাতের বেলা ঘুমের মধ্যে পায়ের পেশিতে এই টান ধরার সমস্যা রয়েছে। কিন্তু কেন এমন হয়? চিকিৎসকরা বলছেন, এর পেছনে লুকিয়ে আছে বেশ কিছু গুরুতর কারণ।
কেন হঠাৎ এই ক্র্যাম্প? বিশেষজ্ঞদের মতে, পায়ের পেশিতে টান ধরার পেছনে কোনো একটি নয়, বরং একাধিক কারণ কাজ করতে পারে:
পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের অভাব: রক্তে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের মাত্রা কমে গেলে স্নায়ু ও পেশির ভারসাম্য নষ্ট হয়, ফলে টান ধরে।
শরীরে জলের অভাব: সারাদিন পর্যাপ্ত জল না খেলে পেশিগুলো নমনীয়তা হারায় এবং ডিহাইড্রেশনের কারণে রাতে ক্র্যাম্প হতে পারে।
অত্যধিক পরিশ্রম বা ক্লান্তি: দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে কাজ করা বা পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়লেও এই সমস্যা দেখা দেয়।
বিপাকীয় সমস্যা: লিভার বা কিডনির কোনো সমস্যা থাকলেও অনেক সময় শরীরে ইলেক্ট্রোলাইট ইমব্যালেন্সের কারণে এমনটা হতে পারে।
তৎক্ষণাৎ মুক্তির উপায় কী? মাঝরাতে হঠাৎ টান ধরলে আতঙ্কিত না হয়ে নিচের পদ্ধতিগুলো মেনে চলুন: ১. পায়ের পাতা স্ট্রেচ করুন: যে পায়ে টান ধরেছে, তার আঙুলগুলো হাত দিয়ে ধরে নিজের দিকে সাবধানে টানুন। কিছুক্ষণ টান টান করে ধরে রাখলে পেশি শিথিল হবে। ২. গরম বা ঠান্ডা সেঁক: পেশিতে টান ধরলে সেই জায়গায় হট ওয়াটার ব্যাগ বা বরফ দিতে পারেন। এতে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক হয় এবং ব্যথা কমে। ৩. হালকা মালিশ: খুব জোরে চাপ না দিয়ে আঙুলের ডগা দিয়ে আলতো করে মালিশ করুন।
ভবিষ্যতে সাবধান হতে যা করবেন: প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে পর্যাপ্ত জল পান করুন। খাদ্যতালিকায় কলা (পটাশিয়ামের উৎস), দুধ ও সবুজ শাকসবজি রাখুন। এছাড়াও, শোয়ার আগে হালকা কিছু ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ বা পা স্ট্রেচ করার অভ্যাস করলে এই সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
মনে রাখবেন, যদি প্রায় প্রতি রাতেই এই সমস্যা হয় এবং যন্ত্রণা অসহ্য হয়ে ওঠে, তবে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। সুস্থ থাকুন, নিশ্চিন্তে ঘুমান।





