মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে কি বড় কোনো রাজনৈতিক চাল? জনগণনা ও ডিলিমিটেশন নিয়ে রণক্ষেত্র সংসদ!

আগামী তিন দিন ভারতীয় সংসদীয় ইতিহাসের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হতে চলেছে। মোদি সরকার সংসদে তিনটি বৈপ্লবিক বিল পেশ করতে চলেছে, যা দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রকে আমূল বদলে দিতে পারে। সরকারের দাবি, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। তবে বিরোধীদের দাবি, সংরক্ষণের টোপ দিয়ে আসলে আসন পুনর্বিন্যাস বা ‘ডিলিমিটেশন’-এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে কেন্দ্র।

কী থাকছে এই তিনটি বিলে?
কেন্দ্রের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে লোকসভার আসন সংখ্যা বর্তমান ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করা। এর মধ্যে ৮১৫টি আসন থাকবে রাজ্যগুলির জন্য এবং ৩৫টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য। দ্বিতীয় বিলে দিল্লি ও জম্মু-কাশ্মীরের পুনর্গঠন আইনে বদল আনার কথা বলা হয়েছে এবং তৃতীয় বিলটি হলো একটি শক্তিশালী ‘ডিলিমিটেশন কমিশন’ গঠন করা। তবে টুইস্ট এখানেই—বিল অনুযায়ী, আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মহিলারা এই সংরক্ষণের সুবিধা পাবেন না। আর এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে ১৫ বছরের জন্য।

দক্ষিণের রাজ্যগুলির কেন এত ক্ষোভ?
সবচেয়ে বড় বিতর্ক দানা বেঁধেছে আসন পুনর্বিন্যাসের মাপকাঠি নিয়ে। ১৯৭১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে বর্তমানে আসন সংখ্যা স্থির থাকলেও, নতুন বিলে তা সাম্প্রতিক জনসংখ্যার ভিত্তিতে করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এখানেই আপত্তি দক্ষিণের রাজ্যগুলির। তামিলনাড়ু বা কেরলের মতো রাজ্যগুলি সফলভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করেছে, অন্যদিকে উত্তর ভারতে জনসংখ্যা হু হু করে বেড়েছে। ফলে জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন ভাগ হলে সংসদে দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্ব কমে যাবে এবং উত্তর ভারতের প্রভাব বাড়বে।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিন থেকে শুরু করে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী—বিরোধীরা একসুরে জানিয়েছেন, তাঁরা মহিলা সংরক্ষণের পক্ষে থাকলেও ডিলিমিটেশনের এই ‘অন্যায্য’ প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করবেন। সব মিলিয়ে, আগামী ৭২ ঘণ্টা সংসদের অন্দরে সরকার ও বিরোধীদের বাগযুদ্ধে উত্তাপ যে তুঙ্গে থাকবে, তা নিশ্চিত।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy