২০২৬ সালের ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্বিন্যাস এবং নারী শক্তি বন্দন বিল (মহিলা সংরক্ষণ বিল) নিয়ে লোকসভার বিতর্কিত অধিবেশনে মোদী সরকারকে কড়া ভাষায় বিঁধলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র। বৃহস্পতিবার সংসদে আলোচনার সময় তিনি অভিযোগ করেন, এই বিলটি আসলে মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য নয়, বরং আসন্ন নির্বাচনগুলোতে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই আনা হয়েছে। প্রিয়াঙ্কার কথায়, “এই বিল থেকে রাজনীতির গন্ধ বেরোচ্ছে।”
লোকসভায় প্রিয়াঙ্কার প্রধান অভিযোগগুলো:
ওবিসিদের প্রতি অবিচার: প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, “জাতিগত জনগণনা (Caste Census) ছাড়া দেশের একটি বিশাল অংশ অর্থাৎ ওবিসি সম্প্রদায়ের মহিলাদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব সম্ভব নয়। সরকার ২০১১ সালের জনগণনাকে ভিত্তি করে এগোতে চাইছে, যা ওবিসিদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার নামান্তর।”
গণতন্ত্রের ওপর আঘাত: প্রিয়াঙ্কা সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি এই সংবিধান সংশোধনী বিল বর্তমান কাঠামোয় পাস হয়, তবে ভারতে গণতন্ত্রের অবসান ঘটবে। তিনি বলেন, “প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে আগে থেকেই গণতন্ত্রকে দুর্বল করা হয়েছে, এখন সরাসরি আক্রমণ করা হচ্ছে।”
তাত্ক্ষণিক প্রয়োগে বাধা কেন: কংগ্রেস নেত্রী প্রশ্ন তোলেন, “যদি সরকার সত্যিই আন্তরিক হয়, তবে বর্তমানে থাকা ৫৪৩টি লোকসভা আসনেই কেন এখনই ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়া হচ্ছে না? কেন ডিলিমিটেশন বা জনগণনার দোহাই দিয়ে একে দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে?”
কংগ্রেসের ঐতিহাসিক অবদান: বক্তব্য রাখার সময় প্রিয়াঙ্কা স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৯২ সালে রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বেই প্রথম পঞ্চায়েত ও পৌরসভায় মহিলা সংরক্ষণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, মোদী সরকার আজ এই বিলের কৃতিত্ব নিতে চাইলেও তারা আসলে ওবিসি কোটার বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।
রাহুল গান্ধীর চিঠি প্রসঙ্গ: প্রিয়াঙ্কা উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালেই রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে মহিলা সংরক্ষণ দ্রুত কার্যকর করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিজেপি তখন কর্ণপাত করেনি, এখন ভোটের প্রয়োজনে একে সামনে আনছে।
সরকারের অবস্থান: এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে জানিয়েছেন যে, কোনো রাজ্যের আসন সংখ্যা কমবে না এবং ২০২৯-এর নির্বাচনের আগেই সমস্ত প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা হবে।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর এই ‘ওবিসি ও মহিলা বঞ্চনা’র সুর ২০২৬-এর নির্বাচনী লড়াইয়ে কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।





