দারিদ্র্যের এক বীভৎস এবং হৃদয়বিদারক রূপ দেখল দেশ। পেটের দায়ে যখন মা-বাবা দুয়ারে দুয়ারে ভিক্ষা করতে ব্যস্ত, তখন বাড়িতে খিদের জ্বালায় ছটফট করতে করতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল মাত্র এক মাস বয়সি এক শিশু। ঘটনাটি ঘটেছে এক প্রত্যন্ত এলাকায়, যা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল আধুনিক সমাজ ও উন্নয়নের আড়ালে থাকা এক অন্ধকার বাস্তবকে। ঘরে ফিরে নিথর কোলের সন্তানকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন হতভাগ্য দম্পতি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দম্পতির আর্থিক অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে ঘরে এক দানা চালও ছিল না। শিশুটিকে ঘরে রেখে পেটের খিদের জ্বালা মেটাতে এবং সন্তানের জন্য দুধ জোগাড় করতে সকালে ভিক্ষা করতে বেরিয়েছিলেন মা ও বাবা। কিন্তু ফিরতে কিছুটা দেরি হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় অভুক্ত থাকার ফলে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়ে এক মাসের শিশুটি। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, দীর্ঘক্ষণ কোনো খাবার বা জল না পাওয়ায় ডিহাইড্রেশন এবং ‘স্টারভেশন’ বা অনাহারেই মৃত্যু হয়েছে তার।
দম্পতি যখন বিকেলে ঝুলি নিয়ে ঘরে ফেরেন, তখন দেখেন শিশুটি নিস্পন্দ হয়ে পড়ে আছে। প্রথমে ভেবেছিলেন ঘুমোচ্ছে, কিন্তু গায়ে হাত দিতেই হাড়হিম হয়ে যায় তাঁদের। চিৎকার করে পাড়া মাথায় করেন তাঁরা। প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দেখেন শিশুটি আর নেই। এই ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, সরকারি রেশন ব্যবস্থা বা শিশু সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা কি তবে পৌঁছাচ্ছে না এই প্রান্তিক মানুষগুলোর কাছে?
পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে খুনের কোনো চিহ্ন না মেলায় অনাহারেই মৃত্যু বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হলেও, যে প্রাণ অবেলায় ঝরে গেল, তার দায় নেবে কে? খিদের জ্বালায় এক মাসের শিশুর এই করুণ পরিণতি এখন সমাজ ও রাষ্ট্রের বিবেককে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।