মরুভূমির গভীরে চিনের গোপন কারসাজি! স্যাটেলাইট ছবিতে ফাঁস পরমাণু যুদ্ধের প্রস্তুতি?

আন্তর্জাতিক রাজনীতির উত্তপ্ত আবহে ফের একবার চোখ কপালে তোলার মতো তথ্য সামনে এল। উত্তর-পশ্চিম চিনের বিস্তীর্ণ মরুভূমি এলাকায় ড্রাগন যে ভয়ঙ্কর সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তুলছে, তা দেখে শিহরিত প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া সাম্প্রতিক ছবিতে ধরা পড়েছে, শিনজিয়াং এবং গানসু প্রদেশের মরুভূমিতে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ মঞ্চ বা লঞ্চপ্যাড তৈরি করছে চিন। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের আশঙ্কা, আমেরিকা বা অন্য কোনও মহাশক্তিধর রাষ্ট্র যদি কখনও চিনের ওপর হামলা চালায়, তবে তা প্রতিহত করতে এবং সেকেন্ডের মধ্যে পাল্টা আঘাত হানতে এই আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে বেজিং।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, মরুভূমির এই দুর্গম এলাকায় ৮০টিরও বেশি পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র বা ‘সাইলস’ (Silo) নির্মাণ করা হয়েছে। মাটির গভীর সুড়ঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র মজুত করে রাখার এই কৌশল চিনের সামরিক সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই সাইলোগুলো থেকে চিনের দীর্ঘপাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো অনায়াসেই আমেরিকার যেকোনো শহরে হামলা চালাতে সক্ষম। কেবল লঞ্চপ্যাড নয়, সেখানে তৈরি করা হয়েছে সুরক্ষিত বাঙ্কার, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কমান্ড অপারেশন সেন্টার। এমনকি অত্যাধুনিক বৈদ্যুতিন যুদ্ধের (Electronic Warfare) জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোও গড়ে তোলা হয়েছে বলে সামরিক বিশেষজ্ঞদের দাবি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিনের এই তৎপরতার পেছনে প্রধান কারণ সম্ভবত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাড়তে থাকা সংঘাত। বিশেষ করে তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের মধ্যে যে স্নায়ুযুদ্ধ চলছে, তার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে এই সামরিক নির্মাণে। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে চিন প্রায় ১০০০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। চিনের হাতে থাকা ‘হুয়ান-১’ (Huoyan-1) স্যাটেলাইট প্রযুক্তি এতটাই উন্নত যে, কোনো শত্রু দেশ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লে উৎক্ষেপণের ৯০ সেকেন্ডের মধ্যেই তা শনাক্ত করে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব।

এই মরুভূমি এলাকায় কেবল মিসাইল লঞ্চপ্যাডই নয়, ‘লোপ নূর’ পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষাকেন্দ্রের কাছে বেশ কিছু অষ্টভুজাকার সামরিক কাঠামো এবং নকল যুদ্ধবিমানের অস্তিত্বও শনাক্ত করা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এগুলি কোনো সম্ভাব্য যুদ্ধের নিশানা বা ড্রিল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। হাওয়াউই প্যাসিফিক ফোরামের বিশ্লেষক অ্যালেকজান্ডার নাইলের মতে, হাজার হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে চিনের এই পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যদিও চিন বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তারা প্রথম পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পক্ষে নয়, বরং শত্রুর আঘাতের পাল্টা জবাব দিতেই তাদের এই সামরিক প্রস্তুতি। তবে স্যাটেলাইট চিত্রের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য আন্তর্জাতিক মহলে এক নতুন অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বেজিং বা পেন্টাগন—কেউই এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত মুখ খোলেনি, কিন্তু মরুভূমির বুকে গড়ে ওঠা এই ‘পরমাণু দুর্গ’ যে আগামীর কোনো বড় যুদ্ধের সংকেত দিচ্ছে, তা স্পষ্ট।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy