বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় তুললেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) প্রধান আসাদুদ্দিন ওআইসি। আসানসোলের এক জনসভা থেকে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে আজ বিজেপি যে জায়গায় পৌঁছেছে, তার জন্য দায়ী খোদ তৃণমূল নেত্রীই। ওআইসির এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর।
১. ওআইসির নিশানায় মমতা
এদিন আসানসোলের সভা থেকে সুর চড়িয়ে আসাদুদ্দিন ওআইসি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে বিজেপির প্রধান বিরোধী মুখ হিসেবে দাবি করেন, কিন্তু বাস্তবটা ঠিক উল্টো। ওঁর ভুল নীতি এবং রাজনৈতিক কৌশলের কারণেই বাংলায় গেরুয়া শিবির আজ এত শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে।” ওআইসির মতে, তৃণমূলের ‘তুষ্টিকরণের রাজনীতি’ আদতে বিজেপির মেরুকরণকেই ত্বরান্বিত করেছে।
২. ‘সেটিং’ তত্ত্বের ইঙ্গিত?
বক্তৃতায় ওআইসি মনে করিয়ে দেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক সময় এনডিএ (NDA) জোটের অংশ ছিলেন এবং অটল বিহারী বাজপেয়ীর ক্যাবিনেটে মন্ত্রীও ছিলেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে তলে তলে সমঝোতা চলে, যা সাধারণ মানুষের চোখের আড়ালে। ওআইসির এই আক্রমণ সরাসরি তৃণমূলের ‘সেকুলার’ ভাবমূর্তিতে আঘাত করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
৩. সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকে থাবা
বিশেষজ্ঞদের মতে, মুর্শিদাবাদ, মালদা ও আসানসোলের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তৃণমূলের একচ্ছত্র আধিপত্যে ভাগ বসানোই ওআইসির মূল লক্ষ্য। মমতাকে আক্রমণ করে তিনি মূলত সংখ্যালঘু ভোটারদের এই বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, তৃণমূল তাঁদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ এবং আদতে বিজেপির হাত শক্ত করছে।
৪. উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহ
ওআইসির এই মন্তব্যের পালটা দিয়েছে তৃণমূল শিবিরও। ঘাসফুল শিবিরের দাবি, ওআইসি আসলে বিজেপির ‘বি-টিম’। ভোট কাটাকুটি করে বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই তিনি বাংলায় এসে বিতর্কিত মন্তব্য করছেন।





