২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের মহাযুদ্ধে এবার ‘অলআউট’ আক্রমণে নামল বামফ্রন্ট। প্রথম দফায় ১৯২টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করার পর, বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করল সিপিএম তথা বামফ্রন্ট। তবে এই তালিকার মূল আকর্ষণ হলো রাজ্যের দুই হেভিওয়েট কেন্দ্র—যেখানে লড়াই করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। আলিমুদ্দিন স্ট্রিট সূত্রে খবর, এই দুই ‘হেভিওয়েট’ নেতার বিরুদ্ধে কোনো প্রবীণ নয়, বরং লড়াকু তরুণ মুখদেরই প্রার্থী করা হয়েছে।
সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে জানান, মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এবার যুব সমাজই প্রধান হাতিয়ার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কলকাতা দক্ষিণ ও সংশ্লিষ্ট বিধানসভা কেন্দ্রে যেমন নজরকাড়া প্রার্থী দেওয়া হয়েছে, তেমনই নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর গড়েও থাবা বসাতে প্রস্তুত বামেরা। রাজনৈতিক মহলের মতে, গত কয়েক বছরের ছাত্র-যুব আন্দোলন থেকে উঠে আসা মুখদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এই তালিকায়।
বামেদের এই রণকৌশলে স্পষ্ট যে, তারা কেবল ভোট কাটার জন্য নয়, বরং জেতার জন্যই ময়দানে নামছে। আরজি কর আন্দোলন থেকে শুরু করে বেকারত্ব ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা রাস্তায় লড়েছেন, তাঁদের অনেককেই এই দফায় টিকিট দেওয়া হয়েছে। প্রথম দফার ১৯২ জনের পর দ্বিতীয় দফার এই তালিকায় আরও বেশ কিছু আসন পূর্ণ হওয়ায় এখন নজর থাকবে বাকি আসনগুলোর দিকে। বিশেষ করে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন রফাসূত্র কোন পর্যায়ে পৌঁছায় এবং জোটের ভবিষ্যৎ কী হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে ২০২৬-এর গদি দখলের লড়াই।