২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হচ্ছে বাংলার রাজনীতির অলিন্দ। এবার সরাসরি সরকার গঠনের ‘চাবিকাঠি’ নিজের হাতে রাখার দাবি জানিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিলেন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। এক জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট হুঙ্কার দিয়ে জানান, ছাব্বিশের নির্বাচনের পর তাঁর নেতৃত্বাধীন শক্তি বা তাঁর নির্ধারিত গোষ্ঠীই ঠিক করবে বাংলায় কারা সরকার গড়বে। হুমায়ুনের এই মন্তব্য কি পরোক্ষভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ? এই নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা।
তবে শুধু সরকার গঠন নয়, নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিয়েও বিস্ফোরক দাবি করেছেন তিনি। হুমায়ুন কবীরের মতে, ভোটার তালিকায় নাম সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) পদ্ধতি আসলে একটি গভীর চক্রান্ত। তিনি দাবি করেন, “এসআইআর-এর নামে আসলে মুসলিম সম্প্রদায়কে হয়রানি করা হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার চেষ্টা চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।” তাঁর এই মন্তব্য সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও উস্কে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
হুমায়ুনের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ শাসক দল তৃণমূলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে যখন দল সংহতির কথা বলছে, তখন হুমায়ুনের এই ‘সরকার গঠনের চাবিকাঠি’ ও ‘কমিশনের চক্রান্ত’ তত্ত্ব বিরোধীদের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিল। বিজেপি ইতিমধ্যেই তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘বিপজ্জনক’ বলে অভিহিত করেছে। সব মিলিয়ে, ছাব্বিশের ভোটের আগে হুমায়ুন কবীরের এই মন্তব্য যে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন কোনো সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।