তুচ্ছ পারিবারিক বিবাদ যে এতটা ভয়াবহ আকার নিতে পারে, তা কল্পনাও করতে পারেননি মহারাষ্ট্রের লাতুর জেলার গ্রামবাসীরা। স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ ঝগড়া করার পর মানসিক অবসাদ থেকে নিজের দুই নিষ্পাপ সন্তানকে নিয়ে কুয়োয় ঝাঁপ দিলেন ২৫ বছরের এক তরুণী। এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
মৃত তরুণীর নাম নিকিতা অমরদীপ ভুরে (২৫)। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার রাত থেকেই স্বামী অমরদীপের সঙ্গে নিকিতার তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পারিবারিক অশান্তি এতটাই চরম পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মধ্যরাত দেড়টা নাগাদ রাগে ও অভিমানে নিজের ৫ বছরের মেয়ে শিবানী এবং ৩ বছরের ছেলে শিবাংশকে নিয়ে ঘর ছাড়েন নিকিতা।
নিখোঁজ হওয়ার পর উদ্ধার নিথর দেহ
সোমবার সকাল থেকেই মা ও দুই শিশুর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালালেও তাঁদের হদিস পাননি। অবশেষে সোমবার বিকেলে বাড়ির অদূরেই একটি কুয়োর ভেতর তিনজনের দেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রামবাসীদের চিৎকার শুনে ভিড় জমে যায় এলাকায়। খবর পেয়েই পুলিশ এসে দেহগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
রোষের মুখে স্বামী
এই ঘটনার পর থেকেই গ্রামবাসীদের নিশানায় নিকিতার স্বামী অমরদীপ। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন মানসিক নির্যাতনের জেরেই ওই তরুণী এমন কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন।
“পারিবারিক কলহ ও মানসিক অবসাদই এই মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে মূল কারণ বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে। আমরা একটি মামলা রুজু করেছি এবং খতিয়ে দেখা হচ্ছে এর পেছনে অন্য কোনো প্ররোচনা ছিল কি না।” — পুলিশ আধিকারিক





