নির্বাচন কমিশনের এক কলমের খোঁচায় পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক শীর্ষস্তরে বড়সড় রদবদল ঘটতেই রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের আধিকারিকদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাকে ‘মধ্যরাতের গুপ্ত তাণ্ডব’ এবং ‘ঘাড় ধাক্কা’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর অপসারণের ঘটনায় তিনি সরাসরি ‘বাংলা ও বাঙালি বিদ্বেষী’ রাজনীতির অভিযোগ তুলেছেন গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে।
মমতার অভিযোগ, বিজেপি দিল্লির গদিতে বসে বাংলার দক্ষ আধিকারিকদের অপমান করছে। তিনি শুধু বাঙালি নয়, রাজ্যে কর্মরত যোগ্য অবাঙালি আধিকারিকদের হয়েও সওয়াল করেন। তাঁর দাবি, যে সমস্ত আইএএস বা আইপিএস অফিসাররা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছেন, তাঁদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বানানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছেন, কেন বারবার নির্বাচনের আগে বাংলার প্রশাসনকে পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়?
তৃণমূল সুপ্রিমোর নিশানায় ছিল নির্বাচন কমিশনও। তিনি স্পষ্ট জানান, কমিশনকে নিরপেক্ষ থাকা উচিত, কিন্তু তাদের এই পদক্ষেপে বিজেপির নির্দেশই প্রতিফলিত হচ্ছে। এই প্রশাসনিক ডামাডোল লোকসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য ও কেন্দ্রের লড়াইকে এক নতুন মাত্রা দিল। মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান কি কমিশনের সিদ্ধান্তে কোনো প্রভাব ফেলবে, নাকি সঙ্ঘাত আরও বাড়বে—সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।