শ্রীক্ষেত্র পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে আজ যেন ভক্তির জোয়ার বয়ে গিয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এক নতুন এবং অত্যাধুনিক সাজে ভক্তদের সামনে ধরা দিলেন মহাপ্রভু জগন্নাথ। মন্দিরের চারপাশের পরিক্রমা প্রকল্পের কাজ এবং নতুন আলোকসজ্জার পূর্ণ রূপ দেখার জন্য বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পুরীর বড় রাস্তায় তিল ধারণের জায়গা নেই। দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত সমবেত হয়েছেন এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, জগন্নাথ হেরিটেজ করিডোর (Jagannath Heritage Corridor) প্রকল্পের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার পর মন্দির চত্বরের সৌন্দর্য বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে। ভক্তদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট কমাতে তৈরি করা হয়েছে নতুন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত টানেল এবং বিশ্রামাগার। শুধু তাই নয়, মন্দিরের চূড়া থেকে শুরু করে নীলচক্র— সব জায়গাতেই নতুন ধরনের ‘লেজার লাইটিং’ ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা রাতের অন্ধকারে মন্দিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশকে এক মায়াবী রূপ দিচ্ছে।
গতকাল বিকেলের কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির জেরে ওড়িশার তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও ভক্তদের উৎসাহে কোনো ভাটা পড়েনি। ভিড় সামাল দিতে ওড়িশা পুলিশ অতিরিক্ত ৩০০ প্লাটুনেরও বেশি বাহিনী মোতায়েন করেছে। মন্দিরের সেবাইতরা জানিয়েছেন, মহাপ্রভুর বিগ্রহের বিশেষ শৃঙ্গার এবং নতুন বেশ দেখার জন্য মন্দিরের ভেতরেও মানুষের লম্বা লাইন পড়েছে। ভিড়ের জেরে পুরীগামী ট্রেন এবং বাসগুলিতেও ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৬-এর রথযাত্রার আগে এই নতুন রূপান্তর পুরীর পর্যটন ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বকে বিশ্ব দরবারে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেল।