পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন মিটতে না মিটতেই জ্বালানি নিয়ে দেশবাসীর উদ্বেগের পারদ চড়ল। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এক সাম্প্রতিক পরামর্শকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে নানা জল্পনা। দেশবাসীকে জ্বালানি ও গ্যাসের ব্যবহারে রাশ টানার আর্জি জানিয়েছেন তিনি। আর প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার ঠিক পরদিনই আসরে নামতে হয়েছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে।
প্রধানমন্ত্রীর হঠাৎ এই পরামর্শ কেন? ভোটের মরসুম শেষ হতেই দেশবাসীকে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে আমাদের জ্বালানি ও গ্যাসের ব্যবহারে অত্যন্ত সচেতন হতে হবে। তিনি সরাসরি না বললেও, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অস্থিরতার আঁচ যাতে ভারতের ওপর বেশি না পড়ে, তার জন্যই এই আগাম সর্তকতা। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই বার্তার পরেই সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—তবে কি তেলের দাম ফের আকাশছোঁয়া হতে চলেছে?
কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের পাল্টা আশ্বাসে ধন্দ কাটছে না প্রধানমন্ত্রীর বার্তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই আসরে নামে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক। দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জানানো হয়েছে যে, ভারতে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর গলাতেও শোনা গেছে একই সুর। সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল ও গ্যাসের যোগান রয়েছে এবং সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।
দ্বন্দ্ব না কি সচেতনতা? একদিকে প্রধানমন্ত্রী যখন ব্যবহারের নিয়ন্ত্রণের কথা বলছেন, অন্যদিকে মন্ত্রক বলছে সব ঠিক আছে। এই দুই ভিন্নধর্মী বার্তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তরজা। বিরোধীদের দাবি, সরকার আসলে তেলের দাম বাড়ানোর পথ প্রশস্ত করছে। অন্যদিকে সরকারি মহলের মতে, প্রধানমন্ত্রী কেবল দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নিরাপত্তার খাতিরে দেশবাসীকে অপচয় বন্ধ করতে বলেছেন।
জনসাধারণের কপালে চিন্তার ভাঁজ রাজ্যের হাইভোল্টেজ নির্বাচনের পর সাধারণ মানুষ যখন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে চাইছিলেন, ঠিক তখনই জ্বালানি নিয়ে এই চাপানউতোর তাঁদের কপালে নতুন করে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। গ্যাসের দাম থেকে শুরু করে পেট্রোল-ডিজেলের দর, আগামিদিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।
জ্বালানি নিয়ে এই ধোঁয়াশা নিয়ে আপনার কী মত? প্রধানমন্ত্রী কি তবে বড় কোনো সঙ্কটের ইঙ্গিত দিলেন? আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান আপনার গুরুত্বপূর্ণ মতামত।





