নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, রাজ্য সরকারের ‘আবাস যোজনা’ বা ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের কোনো নথি নির্বাচনী কাজ বা ভোটার তালিকার বিশেষ নথিকরণ (SIR)-এর ক্ষেত্রে বৈধ বা গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করা হবে না। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি যখন তুঙ্গে, তখন কমিশনের এই নির্দেশ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
নির্বাচন কমিশনের যুক্তি অনুযায়ী, সরকারি প্রকল্পের নথি অনেক সময় রাজনৈতিক প্রচারের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। যেহেতু ভোটার তালিকার সংশোধন বা নতুন নাম তোলার ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র বা ঠিকানার প্রমাণের প্রয়োজন হয়, তাই সেখানে কেন্দ্রীয় বা অন্যান্য স্বীকৃত পরিচয়পত্র (যেমন আধার, ভোটার কার্ড, পাসপোর্ট) ব্যবহার করার পক্ষপাতী কমিশন। আবাস যোজনার নথিতে অনেক সময় সঠিক যাচাইকরণ পদ্ধতি বা সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রতিটি জেলাশাসক এবং নির্বাচনী আধিকারিকদের এই মর্মে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ভোটার তালিকার কাজে কোনোভাবেই যেন আবাস যোজনা বা বাংলার বাড়ির শংসাপত্রকে প্রামাণ্য দলিল হিসেবে গ্রহণ করা না হয়। বিরোধীরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে দাবি করেছে, এর ফলে সরকারি প্রকল্পের নাম ভাঙিয়ে অসাধু উপায়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলার চেষ্টা বন্ধ হবে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।