শহুরে ভোটারদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে এবং বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের সুবিধার্থে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করল নির্বাচন কমিশন। এবার কলকাতার ৭৮টি বিলাসবহুল বহুতল আবাসনের ভেতরেই তৈরি করা হবে পোলিং বুথ বা ভোটকেন্দ্র। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবাসনের ভোটারদের ভোটদানে অনীহা কাটাতে এবং দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি কমাতে এই বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্য়েই সেই ৭৮টি বহুতল ও আবাসন কমপ্লেক্সের তালিকা চূড়ান্ত করেছে কমিশন।
কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বহুতল আবাসনে বসবাসকারী ভোটাররা অনেক সময় বুথ অনেক দূরে হওয়ায় বা যাতায়াতের অসুবিধার কারণে ভোট দিতে যান না। বিশেষ করে যাঁরা বয়স্ক বা প্রবীণ নাগরিক, তাঁদের ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি প্রকট হয়ে ওঠে। এই ‘ভোট অনীহা’ বা আরবান অ্যাপ্যাথি (Urban Apathy) কাটাতে আবাসনের ভেতরে বা কমিউনিটি হলে বুথ করা হলে ভোটদান প্রক্রিয়া অনেক বেশি সহজ ও সুবিধাজনক হবে। কমিশনের এক আধিকারিকের কথায়, “আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি ভোটারের দুয়ারে গণতন্ত্রের অধিকার পৌঁছে দেওয়া। বড় আবাসনের ভেতরে বুথ হলে ভোট শতাংশ এক লাফে অনেকটা বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।”
তালিকায় থাকা ৭৮টি আবাসনের মধ্যে দক্ষিণ এবং উত্তর কলকাতার বেশ কিছু বড় হাউজিং সোসাইটি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট আবাসন কমিটিগুলির সঙ্গে কথা বলে পরিকাঠামো খতিয়ে দেখছেন জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা। যে সমস্ত আবাসনে অন্তত ২৫০ থেকে ৫০০ জন নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন এবং যেখানে ভোটারদের বসার বা লাইনে দাঁড়ানোর মতো পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে, মূলত সেগুলিকেই তালিকায় রাখা হয়েছে। কমিশনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কলকাতার প্রবীণ নাগরিকরা। তাঁদের মতে, রোদে পুড়ে বা ভিড় ঠেলে দূরে ভোট দিতে যাওয়ার চেয়ে নিজের আবাসনের পরিসরেই ভোট দেওয়া অনেক নিরাপদ এবং সম্মানজনক।