পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচন যাতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়, তার জন্য এবার সরাসরি জেলের অন্দরে নজর দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নজিরবিহীন প্রশ্ন তোলেন। কমিশন জানতে চায়, রাজ্যে ভোটের সময় কি জেল থেকে দাগি আসামিরা পালিয়ে যায় বা প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে? এই বিষয়ে মুখ্যসচিবকে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করার এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
কমিশনের আশঙ্কা, নির্বাচনের সময় জেল থেকে দাগি অপরাধীরা বাইরে থাকলে তারা ভোটারদের ভয় দেখানো বা বুথ দখলের মতো হিংসাত্মক কাজে যুক্ত হতে পারে। তাই প্যারোলে থাকা বন্দিদের তালিকা এবং সম্প্রতি কতজন বন্দি জেল থেকে পালিয়েছেন বা মুক্তি পেয়েছেন, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য চেয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। এর পাশাপাশি ঝুলে থাকা জামিন অযোগ্য পরোয়ানা (NBW) কার্যকর করার ক্ষেত্রে রাজ্যের ধীরগতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিশন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্ছিদ্র করতেই কমিশনের এই কঠোর মনোভাব। জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, নির্বাচনের সময় কোনোভাবেই কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। জেল কর্তৃপক্ষের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত এলাকাগুলোতেও বাড়তি সতর্কতা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবান্নকে দেওয়া এই ‘হোমওয়ার্ক’ এখন রাজ্যের নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করল।