ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই রাজ্য রাজনীতি যখন ফুটছে, ঠিক তখনই এক ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল আসানসোল। বুধবার গভীর রাতে রাজ্য পুলিশের একটি গাড়ির তাণ্ডবে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি পরপর বেশ কয়েকটি টোটো ও অটোতে ধাক্কা মারলে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। উত্তেজিত জনতা গাড়িটিতে ভাঙচুর চালায় এবং চালককে ধরে গণপিটুনি দেয়।
গভীর রাতে পুলিশের গাড়ির তাণ্ডব
স্থানীয় সূত্রে খবর, রাত ১২টা নাগাদ রাজ্য পুলিশের একটি স্টিকার লাগানো গাড়ি আসানসোলের একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ গলিতে ঢুকে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পরপর দাঁড়িয়ে থাকা টোটো ও অটোতে সজোরে ধাক্কা মারেন। এই ঘটনায় এক কিশোরীসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর জখম হন। গাড়িটি আটকে পড়লে ক্ষুব্ধ জনতা চালককে টেনে নামিয়ে মারধর শুরু করে। চাঞ্চল্যকর দাবি উঠেছে যে, গাড়িটি রাজ্য পুলিশের হলেও সেটি চালাচ্ছিলেন এক CISF জওয়ান। খবর পেয়ে আসানসোল উত্তর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মন্ত্রী মলয় ঘটক ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
প্রার্থীদের ওপর দুর্ঘটনার ছায়া
আসানসোলের এই উত্তেজনার সমান্তরালে রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তেও প্রার্থীদের কনভয় দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। বুধবার সন্ধ্যায় বহরমপুরে বড়সড় দুর্ঘটনার মুখে পড়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর কনভয়। আচমকাই একটি ট্রাক কনভয়ের ভেতর ঢুকে পড়ায় আতঙ্ক ছড়ায়। কংগ্রেসের অভিযোগ, পুলিশকে জানানো সত্ত্বেও দীর্ঘক্ষণ কোনও সাহায্য মেলেনি। উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেছে হাত শিবির।
অন্যদিকে, প্রচার সেরে ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন শীতলকুচির বিজেপি প্রার্থী সাবিত্রী বর্মন। মাথাভাঙার শিকারপুরে একটি ট্রাকের ধাক্কা এড়াতে গিয়ে তাঁর গাড়িটি রাস্তার ধারের জলাশয়ে উল্টে যায়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় তৃণমূলের ‘ষড়যন্ত্র’ দেখছে বিজেপি নেতৃত্ব, যদিও তৃণমূল সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ভোটের মুখে এই পরপর দুর্ঘটনা ও উত্তেজনা ঘিরে প্রশাসন এখন চরম সতর্ক।





