দীর্ঘ বছরের জমাট বাঁধা পলি আর কচুরিপানার জঞ্জাল কাটিয়ে অবশেষে নাব্যতা ফিরছে উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার গুরুত্বপূর্ণ ‘বাইকার’ খালের। কলসুর ও চাকলা—এই দুই পঞ্চায়েত এলাকার কয়েক হাজার মানুষের কাছে বর্ষা মানেই ছিল আতঙ্কের নাম। সামান্য বৃষ্টিতেই খালের জল উপচে ঘরবাড়ি প্লাবিত হওয়া ছিল নিয়মিত ঘটনা। অবশেষে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির গুরুত্ব বুঝে ভোটের মুখেই খাল সংস্কারে ময়দানে নামল রাজ্যের সেচ দফতর।
প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায় মিলিয়ে এই ৫ কিলোমিটার বিস্তৃত খালের সংস্কারের জন্য প্রায় ১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই ক্রেন দিয়ে পলি ও মাটি কাটার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। গত বছর বন্যায় দুর্গতদের ক্ষোভের মুখে পড়ে তৃণমূল বিধায়ক রহিমা মণ্ডল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, বর্ষার আগেই সংস্কার হবে। কাজ শুরু হওয়ায় খুশি গ্রামবাসীরাও। স্থানীয় বাসিন্দা ভোলা মণ্ডলের কথায়, “চাষের জমি ডুবে যেত, ঘর ছাড়তে হতো। এবার হয়তো সেই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাব।”
দেগঙ্গার বিডিও ফাহিম আলি জানিয়েছেন, সংস্কারের কাজ শেষ হলে দুই পঞ্চায়েত এলাকার নিকাশি ব্যবস্থার আমূল উন্নতি হবে। বিধায়ক রহিমা মণ্ডল মুখ্যমন্ত্রী ও সেচমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “মানুষের পাশে থাকাই আমাদের লক্ষ্য। দেওয়া কথা মতো বর্ষার আগেই কাজ শেষ করতে আমরা বদ্ধপরিকর।” এই উদ্যোগে দেগঙ্গার বিস্তীর্ণ কৃষি জমিতে যেমন সেচের সুবিধা হবে, তেমনই কমবে ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নেওয়ার হাহাকার।