আর মাত্র সাত দিন। তারপরই বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ করবে ব্যালট বক্স। বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে বাংলার রাজনৈতিক আকাশ এখন প্রতিশ্রুতির ঘন মেঘে ঢাকা। একদিকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের একের পর এক ঝোড়ো সভা আর বিজেপির ‘বিশাল’ ইস্তেহার, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা আক্রমণ ও তৃণমূলের ‘গ্যারান্টি’—দুই শিবিরের লড়াই এখন তুঙ্গে।
বিজেপি তাদের সংকল্পপত্রে মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রায় দ্বিগুণ করার টোপ দিয়েছে। বেকার যুবক-যুবতীদের মন জয়ে মোদী-শাহের প্রতিশ্রুতি—যতদিন না চাকরি হচ্ছে, মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। এছাড়াও আগামী ৫ বছরে ১ কোটি কর্মসংস্থানের মেগা আশ্বাস দিয়েছেন অমিত শাহ। পাল্টায় দক্ষিণবঙ্গের পিংলার জনসভা থেকে আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানান, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চলছে, আজীবন চলবে। আমাদের সরকার থাকলে আপনাদের আশীর্বাদ ও দোয়া থাকলে এটি কেউ বন্ধ করতে পারবে না।” মমতা আরও মনে করিয়ে দেন, ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের মাধ্যমে তৃণমূল সরকার ইতিমধ্যেই বেকারদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বকেয়া টাকা আটকে রাখার অভিযোগ তুলে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “টাকা না দিলেও আমরা কিন্তু ভাতা বা প্রকল্পের সুবিধা বন্ধ করিনি।” বিজেপিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, অন্য রাজ্যে বিজেপি ভোটের আগে লম্বা চওড়া প্রতিশ্রুতি দেয় আর ভোট মিটলে সব বন্ধ করে দেয়। একদিকে বিজেপির নতুন প্রতিশ্রুতির ‘ঝকঝকে’ গ্যারান্টি, অন্যদিকে তৃণমূলের চালু থাকা প্রকল্পের ওপর ‘ভরসা’—এই দুইয়ের যাঁতাকলে দাঁড়িয়ে ভোটাররা এখন কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটাই দেখার।





