রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। হাতে আর মাত্র সাতটি দিন। ঠিক তার আগেই বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় পদক্ষেপ করল ভারতের নির্বাচন কমিশন। রাজ্যজুড়ে চালানো বিশেষ সমীক্ষার পর প্রায় ২০০টিরও বেশি এলাকাকে ‘অশান্তিপ্রবণ’ বা ‘স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে এই এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
কমিশনের নজরে ‘অশান্তিপ্রবণ’ পকেটসমূহ: নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বিগত কয়েক বছরের রাজনৈতিক ইতিহাস, গোলমালের রেকর্ড এবং বর্তমান উত্তেজনার ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশ কিছু এলাকা।
মুর্শিদাবাদ, বীরভূম এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নির্দিষ্ট কিছু ব্লককেও ‘রেড জোন’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই এলাকাগুলোতে ভোটের আগেই রুট মার্চ বাড়াতে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।
নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্লু-প্রিন্ট: ভোটের দিন যাতে সাধারণ মানুষ নির্ভয়ে বুথে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার জন্য এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে কমিশন। ১. কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন: ইতিমধ্যেই রাজ্যে এসে পৌঁছেছে বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী। স্পর্শকাতর ২০০টি এলাকায় বুথের বাইরেও বাহিনীর কড়া প্রহরা থাকবে। ২. ড্রোন ও সিসিটিভি: জঙ্গলমহল এবং সীমান্ত লাগোয়া জেলাগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। ৩. নাকা তল্লাশি: এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াতের পথে চলছে কড়া তল্লাশি, যাতে কোনোভাবে অস্ত্র বা অবৈধ টাকা পাচার না হতে পারে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: কমিশনের এই রিপোর্ট সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, শাসকদল ভয় দেখিয়ে ভোট করার চেষ্টা করছে বলেই এত এলাকা অশান্তিপ্রবণ। অন্যদিকে শাসকদলের দাবি, বাংলার ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করতেই বেছে বেছে কিছু এলাকাকে টার্গেট করা হচ্ছে।
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি: ভোটের আর এক সপ্তাহ বাকি থাকতে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। বুথ দখল বা রিগিং রুখতে কুইক রেসপন্স টিমকে (QRT) সবসময় সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এখন দেখার, কমিশনের এই কড়া নজরদারি আগামী ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনে বাংলায় শান্তির বাতাবরণ বজায় রাখতে পারে কি না।





