লোকসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই রাজ্য় সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে বড়সড় ঘোষণা করল নবান্ন। বকেয়া ডিএ নিয়ে দীর্ঘদিনের আন্দোলন এবং আইনি লড়াইয়ের আবহে এই ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে সরকারের এই পদক্ষেপকে ‘ভোটের গিমিক’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। ডিএ ইস্যুতে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ শানালেন মেদিনীপুরের প্রাক্তন সাংসদ।
দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ-র দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। শহিদ মিনারের নিচে তাঁদের ধর্না মঞ্চ আজও অটল। এই আবহে ভোটের মুখে রাজ্য সরকার ডিএ বৃদ্ধির যে ঘোষণা করেছে, তাকে হাতিয়ার করেই ময়দানে নেমেছে গেরুয়া শিবির। দিলীপ ঘোষের দাবি, “ভোট এলেই মুখ্যমন্ত্রীর মনে পড়ে সরকারি কর্মচারীদের কথা। সারা বছর তাঁদের বঞ্চিত করে এখন দয়া দেখানো হচ্ছে। কিন্তু সরকারি কর্মীরা বোকা নন, তাঁরা জানেন এটা কেবল ভোটের বৈতরণী পার হওয়ার কৌশল।”
দিলীপ ঘোষ আরও অভিযোগ করেন যে, মুখ্যমন্ত্রী একদিকে উন্নয়নের খতিয়ান দিচ্ছেন, অন্যদিকে রাজ্যের মেরুদণ্ড অর্থাৎ সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত রাখছেন। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মুখে অনেক বড় বড় কথা বলেন, কিন্তু নিজের কর্মীদের প্রাপ্যটুকু দিতে তাঁর হাত কাঁপে। এই সামান্য বৃদ্ধিতে আন্দোলন থামবে না।” ডিএ ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টে ঝুলে থাকা মামলার প্রসঙ্গ টেনেও রাজ্য সরকারকে একহাত নেন তিনি।
পাল্টা তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রের বঞ্চনা সত্ত্বেও সীমিত ক্ষমতার মধ্যে রাজ্য সরকার কর্মীদের কথা ভাবছে। ডিএ প্রদান কোনো দয়া নয়, এটি কর্মীদের অধিকার এবং সরকার তা ধাপে ধাপে পূরণ করছে। তবে ভোটের মুখে ডিএ নিয়ে এই তরজা যে বুথ স্তর পর্যন্ত পৌঁছাবে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার বিষয়, সরকারের এই ঘোষণা সরকারি কর্মীদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে পারে নাকি বিরোধীদের হাতে আরও বড় অস্ত্র তুলে দেয়।