২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজতেই ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তরবঙ্গের ভূমিপুত্রদের আবেগ। এবার আর আলাদা আলাদা ভাবে নয়, বরং পৃথক রাজ্যের দাবিতে হাতে হাত মেলাল পাহাড়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা এবং সমতলের কামতাপুর পিপলস পার্টি (KPP)। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহার পর্যন্ত বিস্তৃত ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতেই এই ‘রণকৌশল’ নিয়েছে আঞ্চলিক দলগুলো।
পাহাড় ও সমতলের নতুন অক্ষ: বুধবার শিলিগুড়িতে আয়োজিত এক যৌথ সভায় গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা প্রধান বিমল গুরুং এবং কামতাপুর আন্দোলনের নেতারা একজোট হয়ে লড়াইয়ের ঘোষণা করেন। তাঁদের দাবি, কয়েক দশক ধরে উন্নয়ন এবং বঞ্চনার শিকার হয়েছে উত্তরবঙ্গ। তাই নিজস্ব আত্মপরিচয় ও প্রশাসনিক স্বাধীনতার জন্য ‘গোর্খাল্যান্ড’ এবং ‘কামতাপুর’ রাজ্য গঠনই একমাত্র পথ।
ভোটের সমীকরণে প্রভাব: উত্তরবঙ্গের ৫৪টি বিধানসভা আসনে রাজবংশী এবং গোর্খা ভোটাররা নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেন। এর আগে বিজেপি পৃথক রাজ্যের বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের স্বপ্ন দেখিয়ে এই এলাকাগুলোতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল। তবে এবার স্থানীয় দলগুলোর এই জোট বিজেপি ও তৃণমূল—উভয় শিবিরের জন্যই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
নবান্নের কড়া নজর: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি ‘বঙ্গভঙ্গ’ হতে দেবেন না। উন্নয়নের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গকে মূল স্রোতে রাখার বার্তা দিয়েছে শাসক দল। অন্যদিকে, এই নতুন জোটের ফলে পাহাড় ও সমতলে নতুন করে আন্দোলনের আগুন জ্বলে উঠবে কি না, তা নিয়ে সজাগ রয়েছে রাজ্য পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ।
জনজীবনের উদ্বেগ: নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের আন্দোলন পর্যটন শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পাহাড়ের ব্যবসায়ীরা। সাধারণ মানুষের মনেও উঁকি দিচ্ছে পুরনো সেই অস্থির দিনগুলোর স্মৃতি।