পশ্চিমবঙ্গে জারি করা ১.৬৯ কোটি জাতিগত শংসাপত্রের সত্যতা যাচাই করতে সমস্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের (DM) এক নজিরবিহীন ও কঠোর নির্দেশ দিল রাজ্য সরকার। ২০১১ সাল থেকে রাজ্যে ইস্যু করা সমস্ত তফসিলি জাতি (SC), তফসিলি উপজাতি (ST) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর (OBC) শংসাপত্রগুলি পুনরায় খতিয়ে দেখার জন্য অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ (BCW) বিভাগের সচিব এই আদেশ জারি করেছেন। গত কয়েক বছর ধরে ভুয়ো ও অযোগ্য ব্যক্তিদের কাস্ট সার্টিফিকেট দেওয়ার ভূরি ভূরি অভিযোগ আসার পরই এই পদক্ষেপ।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, ২০২০ সাল থেকে চালু হওয়া ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরের মাধ্যমে প্রায় ৪৭.৮ লক্ষ শংসাপত্র দেওয়া হয়েছিল, যার মধ্যে তড়িঘড়ি কাজ সারতে গিয়ে কোনো রকম নথিপত্র যাচাই বা সরেজমিনে তদন্ত করা সম্ভব হয়নি। এই সন্দেহজনক শংসাপত্রগুলির ভিত্তিতে তাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের উত্তরসূরিরাও সুবিধা পাওয়ায় প্রকৃত সংরক্ষিত শ্রেণীর চাকরি ও শিক্ষার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছিল। বিশেষ করে জঙ্গলমহল অঞ্চলে এই নিয়ে তীব্র জনঅসন্তোষ তৈরি হয়, যার প্রভাব সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনেও দেখা গেছে।
নতুন সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, মহকুমা শাসকদের (SDO) প্রতিটি শংসাপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে রি-ভেরিফাই করতে হবে। এছাড়া, সম্প্রতি সমাপ্ত বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে, তাদের এবং তাদের নির্ভরশীলদের কাস্ট সার্টিফিকেটও কঠোরভাবে স্ক্রিনিং করা হবে। তদন্তে জালিয়াতি প্রমাণিত হলে শংসাপত্রগুলি অবিলম্বে বাতিল করা হবে এবং গাফিলতির জন্য ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষকে ব্যক্তিগতভাবে জবাবদিহি করতে হবে।





