২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বাংলার ‘মহিলা ভোট’ ব্যাংক কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে লড়াই এখন তুঙ্গে। তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পাল্টা হিসেবে বিজেপি শুরু করেছে ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ বিলি। আর এই কার্ড বিলি নিয়েই এবার নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, এটি স্রেফ জনসেবা নয়, বরং ভোটারদের দেওয়া সরাসরি ‘নির্বাচনী ঘুষ’।
তৃণমূলের অভিযোগের তির: তৃণমূল নেতা আবীর ঘোষাল ও দলীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনে দেওয়া অভিযোগে তৃণমূল জানিয়েছে:
ঘুষের অভিযোগ: বিজেপি বাড়ি বাড়ি গিয়ে যে কার্ড বিলি করছে, তাতে ক্ষমতায় এলে মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলের মতে, ভোটের মুখে ফর্ম বিলি করে টাকার প্রলোভন দেখানো নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন।
ফর্ম বিলি ও তথ্য সংগ্রহ: ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাঁদের ‘ঘুষ’ দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি জোড়া-ফুল শিবিরের।
তৎপরতা: কমিশনের কাছে অবিলম্বে এই কার্ড বিলি বন্ধ করার এবং বিজেপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তৃণমূল।
বিজেপির ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’ কী? সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি ও নির্মলা সীতারমণ রাজ্যে এসে এই কার্ডের সূচনা করেন। বিজেপির ‘সংকল্প পত্র’ বা ইস্তেহারের একটি অংশ হিসেবে এই কার্ডকে দেখা হচ্ছে। বিজেপির দাবি:
তারা ক্ষমতায় এলে বাংলার মা-বোনেদের মাসে ৩০০০ টাকা (অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প) দেওয়া হবে।
এটি কোনো ঘুষ নয়, বরং এটি একটি ‘গ্যারান্টি কার্ড’ যা সাধারণ মানুষকে বিজেপির প্রতিশ্রুতির বিষয়ে নিশ্চিত করবে।
রাজনৈতিক লড়াই: রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প বর্তমানে বাংলার মহিলাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়। সেই জনপ্রিয়তাতেই ভাগ বসাতে ৩০০০ টাকার এই পাল্টা চাল দিয়েছে বিজেপি। তৃণমূল বিষয়টিকে ‘নির্বাচনী টোপ’ হিসেবে দাগিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রভাব ফেলতে চাইছে।
বিশেষ মন্তব্য: নির্বাচনী বিধিভঙ্গের এই অভিযোগ নিয়ে কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার। কারণ এই নির্দেশের ওপর নির্ভর করছে অনেকগুলো সংসদীয় আসনের ভাগ্য।
ভোটের লড়াইয়ে কার্ড বনাম ভাণ্ডার—শেষ হাসি কে হাসবে? নজর রাখুন আমাদের পরবর্তী আপডেটে।





