‘ভোটের আগে জামাইবাবু, পরে শালা!’ বিস্ফোরক ত্বহা সিদ্দিকী, কার দিকে ইঙ্গিত ফুরফুরা শরিফের পীরজাদার?

এসআইআর (SIR) শুনানির নোটিস ঘিরে ফের উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি। এবার সেই তালিকায় নাম জড়াল ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীর। মঙ্গলবার শুনানিতে হাজিরা দিয়ে বেরিয়েই বিস্ফোরক মেজাজে ধরা দিলেন তিনি। রাজনৈতিক দলগুলোকে কড়া আক্রমণ করে তিনি সাফ জানালেন, ভোটের স্বার্থে মুসলিমদের ব্যবহার করা হচ্ছে, কিন্তু কাজের সময় সবাই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।

‘ভোটের আগে জামাইবাবু, পরে শালা’: এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে ত্বহা বলেন, “ভোটের সময় আমরা রাজনৈতিক নেতাদের কাছে জামাইবাবু হয়ে যাই, আর ভোট মিটে গেলেই হয়ে যাই শালা।” তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষকে এসআইআর-এর নাম করে অহেতুক হয়রান করা হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলো মানুষের আবেগ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে এবং একে অপরের সঙ্গে গোপন আঁতাত করে চলছে। তাঁর কথায়, “এরা সব চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। একজন সাপ হয়ে কামড়াচ্ছে, আর একজন ওঝা হয়ে ঝাড়ছে।”

শুনানিতে ‘মুচকি হাসি’র রহস্য: শুনানি প্রক্রিয়া নিয়ে পীরজাদা দাবি করেন, তাঁর নথিপত্র দেখে খোদ আধিকারিকরাই অবাক হয়ে গেছেন। তিনি বলেন, “আমি লিগ্যাল মাল আছি, তাই বুক ফুলিয়ে শুনানিতে এসেছি। অফিসাররা আমার কাগজপত্র দেখে শুধু মুচকি হেসেছেন, কিছু জিজ্ঞাসা করার সাহস পাননি। ওরাও তো ওপর মহলের চাপে সমস্যায় আছে। তবে ওদের সব প্ল্যান এবার ভেস্তে যাবে।”

২০২৬-এর হুঁশিয়ারি: বিজেপি ও তৃণমূল— কাউকেই রেয়াত করেননি ত্বহা। তিনি স্পষ্ট জানান, মুসলিম সমাজকে টার্গেট করা হচ্ছে। বিজেপির ধারণা মুসলিমরা তাদের ভোট দেয় না, তাই এই নোটিস। আবার তৃণমূলের প্রতিও তাঁর প্রচ্ছন্ন হুঙ্কার স্পষ্ট। তিনি বলেন, “আমরা তৃণমূল বা সিপিএম কাউকেই অন্ধভাবে ভোট দিই না। যারা উন্নয়ন করবে, মানুষ তাদের পক্ষেই থাকবে। ২০২৬-এর নির্বাচনে মানুষ এর কড়া জবাব দেবে।” পীরজাদার এই মন্তব্য ঘিরে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy