আদালতের লড়াই, কুরুচিকর পোস্ট আর তুখোড় প্রচারের পালা শেষ। আগামীকাল, বুধবার বঙ্গে ভোটযুদ্ধের মেগা ফাইনাল বা দ্বিতীয় দফা। ১৪২টি বিধানসভা আসনে ভাগ্য নির্ধারণ হতে চলেছে ১,৪৪৮ জন প্রার্থীর। ৩ কোটি ২১ লক্ষেরও বেশি ভোটারের রায়ে ঠিক হবে আগামী পাঁচ বছর বাংলার মসনদ কার দখলে থাকবে। কিন্তু ভোটের লড়াই ছাপিয়ে এখন আলোচনার তুঙ্গে প্রার্থীদের সম্পত্তির পাহাড় আর অপরাধের খতিয়ান।
টাকার পাহাড় বনাম মামলার বহর: নির্বাচন কমিশনের হলফনামা বলছে, দ্বিতীয় দফার প্রার্থীদের মধ্যে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ৩২১ জন। এর মধ্যে তৃণমূলের ১০৩ জন এবং বিজেপির ৭৩ জন প্রার্থী কোটিপতি।
সবচেয়ে ধনী: রায়দিঘির বিজেপি প্রার্থী পলাশ রানা (১০৪ কোটি টাকা)।
দ্বিতীয় স্থানে: পাণ্ডুয়ার তৃণমূল প্রার্থী সমীর চক্রবর্তী (৭৬ কোটি টাকা)।
মামলার শীর্ষে: কলকাতা বন্দরের বিজেপি প্রার্থী রাকেশ সিংয়ের বিরুদ্ধে রয়েছে ৯১টি মামলা।
নারী নির্যাতন ও অপরাধের ছায়া: রিপোর্ট অনুযায়ী, এই দফার ৩৩৮ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা রয়েছে। সবথেকে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ৯৪ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে নারী ঘটিত অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে ১০ জন হেভিওয়েট প্রার্থীর মধ্যে ৫ জনই বিজেপির এবং ১ জন তৃণমূলের। পাশাপাশি এই দফায় যেমন ৩৯ জন উচ্চশিক্ষিত প্রার্থী আছেন, তেমনই ১৬ জন নিরক্ষর প্রার্থীও ভোটের ময়দানে লড়ছেন।
হেভিওয়েটদের লড়াই ও নজরকাড়া কেন্দ্র: আগামীকাল বাংলার নজর থাকবে একাধিক ভিভিআইপি কেন্দ্রের দিকে:
ভবানীপুর: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম শুভেন্দু অধিকারী।
পানিহাটি: আরজি করের নির্যাতিতার মা (বিজেপি) বনাম কলতান দাশগুপ্ত (সিপিএম) ও তীর্থঙ্কর ঘোষ (তৃণমূল)।
অন্যান্য: ফিরহাদ হাকিম, ব্রাত্য বসু, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, নওশাদ সিদ্দিকি ও সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েটদের ভাগ্য পরীক্ষা হবে কাল।
নিরাপত্তার চাদরে বাংলা: প্রথম দফার তুলনায় দ্বিতীয় দফায় টানটান উত্তেজনা। জগদ্দল থেকে গোঘাট— দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে একাধিক এলাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয়েছে ২৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। কমিশনের পক্ষ থেকে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর (৮৪২০২৭২১০১) চালু করা হয়েছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ: ২০২১-এর নিরিখে এই ১৪২টি আসনের মধ্যে ১২৩টি ছিল তৃণমূলের দখলে। নবান্নে ফেরার হ্যাটট্রিক করতে হলে ঘাসফুল শিবিরকে এই দুর্গ রক্ষা করতেই হবে। অন্যদিকে, প্রথম দফায় ভালো ফলের দাবি করা বিজেপি কি দক্ষিণবঙ্গে থাবা বসাতে পারবে? উত্তর মিলবে মে মাসের চার তারিখে।





