ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে তুঙ্গে উঠল শাসক-বিরোধী সংঘাত। তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পাল্টা হিসেবে বিজেপির প্রস্তাবিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। অভিযোগ উঠেছে, সোনারপুরে এই প্রকল্পের নাম করে ফর্ম ফিলাপ করানো হচ্ছিল এবং বিনিময়ে মহিলাদের টাকা বিলি করা হচ্ছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী লাভলী মৈত্র অভিযোগ করেছেন, বুধবার রাতে বিজেপির পক্ষ থেকে মহিলাদের আধার কার্ড ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। তাঁর দাবি, “ফর্ম ফিলাপের সময় টাকার প্রলোভন দিয়ে মহিলাদের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিহারেও এই কায়দায় টাকা দিয়ে পরে তা ফেরত নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।” তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। যদিও বিজেপি তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্প তৃণমূলের জয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছিল। বর্তমানে এই প্রকল্পে সাধারণ শ্রেণির মহিলারা ১৫০০ টাকা এবং সংরক্ষিত শ্রেণির মহিলারা ১৭০০ টাকা করে ভাতা পাচ্ছেন। এরই পাল্টা হিসেবে বিজেপি ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যেখানে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। টাকার অঙ্কে তৃণমূলকে টেক্কা দিতে বিজেপি এই বড় ঘোষণা করলেও, ভোটের মুখে ফর্ম ফিলাপ ও তথ্য সংগ্রহ ঘিরে আইনি লড়াই এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই দেখার।





