রাজ্যে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) বা বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বড়সড় বদল এল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানিতে দেশের শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারির পর আরও সাত দিন নথি যাচাই বা স্ক্রুটিনির জন্য সময় দিতে হবে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ নিয়ে চরম সংশয় তৈরি হলেও, আজ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হবে।
আদালতের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO) এবং এইআরও-রা (AERO) ভোটারদের নথি যাচাইয়ের কাজ করবেন। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা (DEO) সেই কাজ পুনরায় স্ক্রুটিনি করবেন। এরপর পুরো রিপোর্ট যাবে সিইও মনোজ কুমার আগরওয়ালের কাছে, যিনি চূড়ান্ত মূল্যায়নের পর তা জাতীয় নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। এই দীর্ঘ আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার কারণেই ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনটি পিছিয়ে যাচ্ছে।
প্রশাসনিক তোড়জোড় ও বর্তমান পরিস্থিতি:
নতুন আধিকারিক নিয়োগ: ভোটার তালিকার কাজের গতি বাড়াতে রাজ্য সরকারের ৮৫০৫ জন গ্রুপ-বি (ক্লাস-২) আধিকারিক আগামীকাল থেকে কাজে যোগ দেবেন। দু’দিনের প্রশিক্ষণ এবং লগইন আইডি পাওয়ার পর তাঁরা পুরোদমে মাঠে নামবেন।
শুনানির পরিসংখ্যান: কমিশন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৩৯ লক্ষ উপভোক্তার শুনানি শেষ হয়েছে এবং ১ কোটি ৬ লক্ষ নথি অ্যাপে আপলোড করা হয়েছে।
বাকি থাকা কাজ: উত্তর কলকাতা, মালদা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রে এখনও শুনানি বাকি রয়েছে। বিশেষ করে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা তথ্যের গরমিল থাকা বহু মানুষ শুনানিতে হাজির না হওয়ায় তাঁদের পুনরায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
কমিশন আশাবাদী যে অতিরিক্ত জনবল ব্যবহার করে এবং আদালতের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যে স্ক্রুটিনি সেরে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নির্ভুল ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা রাজ্যের মানুষের সামনে তুলে ধরা সম্ভব হবে।