পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিখুঁত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, কাজ শেষ হওয়া তো দূরের কথা, পাহাড়প্রমাণ নথি নিষ্পত্তির ভারে কার্যত নুইয়ে পড়েছে প্রশাসনিক ব্যবস্থা। ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ভোটারদের যাবতীয় নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির ডেডলাইন ধার্য করেছিল কমিশন। আজ ২০ ফেব্রুয়ারি, হাতে সময় মাত্র কয়েক ঘণ্টা। অথচ এখনও কয়েক লক্ষ আবেদন ও নথি যাচাইয়ের কাজ পড়ে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, তবে কি এসআইআর (SIR) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত তালিকার সময়সীমা ফের বাড়ানো হবে?
কমিশন সূত্রে খবর, তথ্যগত অসঙ্গতি (Logical Discrepancies) এবং ‘আনম্যাপড’ ভোটারদের নিয়ে সবথেকে বেশি সমস্যা তৈরি হয়েছে। প্রায় ১.৫ কোটি ভোটারের শুনানি প্রক্রিয়া শেষে এখন তাঁদের জমা দেওয়া নথি স্ক্রুটিনি করার কাজ চলছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ইতিপূর্বেই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল। বর্ধিত সূচি অনুযায়ী, স্ক্রুটিনির শেষ দিন ২১ ফেব্রুয়ারি এবং চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন স্থির হয়েছে ২৮ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু জেলাস্তরের আধিকারিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সার্ভারের সমস্যা এবং বিপুল সংখ্যক ফর্মের কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদি ২১ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নথি নিষ্পত্তির কাজ শেষ না হয়, তবে তালিকায় নাম ওঠা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে বহু মানুষের। বিশেষ করে যারা নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন করেছেন বা নাম সংশোধন করতে দিয়েছেন, তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। কমিশনের অন্দরে জল্পনা চলছে যে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কেবল স্ক্রুটিনির জন্য আরও কয়েক দিন সময় বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে ২৮ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিনটিও আরও পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। আপাতত নবান্ন এবং নির্বাচন কমিশন— দু’পক্ষই জেলাশাসকদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে যাতে দ্রুত কাজ শেষ করা যায়।