বিশ্ববাসী যে শান্তির আশায় বুক বেঁধেছিল, তা এক নিমেষেই ধুলোয় মিশে গেল। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে ইসলামাবাদে আয়োজিত আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতি বৈঠক কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। দুই পক্ষই নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় আলোচনা থেকে ‘রণেভঙ্গ’ দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন ও তেহরান। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা এখন প্রবল।
কেন ভেস্তে গেল বৈঠক? সূত্রের খবর, আলোচনার শুরু থেকেই দুই দেশের মধ্যে চরম তিক্ততা দেখা দেয়।
ট্রাম্পের শর্ত: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়া পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে।
ইরানের পাল্টা দাবি: অন্যদিকে, ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে— যতক্ষণ না আমেরিকার সমস্ত নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) প্রত্যাহার করা হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো যুদ্ধবিরতি সম্ভব নয়।
ইসলামাবাদে কী ঘটেছিল? পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা টেবিলে বসলেও, আধ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কোনো যৌথ বিবৃতি ছাড়াই দুই পক্ষই হলঘর ছেড়ে বেরিয়ে যায়। ইরানের বিদেশ মন্ত্রক এই বৈঠককে ‘আমেরিকার একগুঁয়েমি’ বলে তোপ দেগেছে।
যুদ্ধের মেঘে বিশ্ব অর্থনীতি এই বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দাম বাড়তে শুরু করেছে।
ভারত কি বিপদে? ভারতের আমদানিকৃত তেলের বড় অংশ এই অঞ্চল দিয়ে আসে। যুদ্ধ শুরু হলে ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা।
শিপিং রুট: লোহিত সাগর এবং পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।
বিশেষ পর্যবেক্ষণ:
“কূটনীতির টেবিল যখন ব্যর্থ হয়, তখন কামানের গর্জন অনিবার্য হয়ে ওঠে। ট্রাম্প এবং খামেনেই— এই দুই বিপরীত মেরুর নেতার জেদ কি তবে ২০২৬-কে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে? উত্তর খুঁজছে বিশ্ববাসী।”





