পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন মানেই বিরোধীদের মুখে শোনা যায় ‘ছাপ্পা ভোট’ বা ‘রিগিং’-এর অভিযোগ। এবার সেই অভিযোগের স্থায়ী সমাধানে আইনি লড়াই শুরু হলো। ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি বুথে ভুয়ো ভোটারদের প্রবেশ রুখতে বায়োমেট্রিক যাচাই (Biometric Authentication) চালুর দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন মামলাকারীরা।
মামলার মূল বিষয়বস্তু: আবেদনকারীদের দাবি, বর্তমান ভোটার কার্ড বা পরিচয়পত্র দেখে ভোট দেওয়ার পদ্ধতিতে অনেক ফাঁকফোকর থেকে যাচ্ছে। একজন ভোটারের বদলে অন্য কেউ ভোট দিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা আকছার ঘটছে। তাই সমাধান হিসেবে:
আধার লিঙ্কিং ও বায়োমেট্রিক: বুথে ভোটারদের আঙুলের ছাপ বা চোখের মণি (Iris) স্ক্যান করার ব্যবস্থা করা হোক।
সেন্ট্রাল ডেটাবেস: যদি ভোটারের বায়োমেট্রিক তথ্য আধার বা সরকারি ডেটাবেসের সঙ্গে মিলে যায়, তবেই তাঁকে ভোট দিতে দেওয়া হবে।
ভুয়ো ভোটার চিহ্নিতকরণ: এর ফলে ডুপ্লিকেট ভোটার বা মৃত ব্যক্তিদের নামে ভোট দেওয়ার পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
কমিশনের অবস্থান কী? নির্বাচন কমিশন অতীতে এই বিষয়ে কিছু প্রযুক্তিগত ও গোপনীয়তার সমস্যার কথা উল্লেখ করেছিল। তবে মামলাকারীদের দাবি, যদি ব্যাঙ্কিং বা রেশন দোকানে বায়োমেট্রিক সফল হতে পারে, তবে গণতন্ত্রের উৎসবে কেন নয়? সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টে এই মামলাটির গুরুত্ব বাড়ছে কারণ ২০২৬-এর নির্বাচনে কেন্দ্র ও রাজ্য দুই প্রশাসনই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলছে।
কেন এই দাবি জোরালো হচ্ছে? সম্প্রতি ভোটার তালিকা থেকে কয়েক লক্ষ ‘ডিলিটেড’ বা বাদ পড়া ভোটার নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তাতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিই সেরা বিকল্প বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। এতে ভোটারের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ থাকবে না।
এখন দেখার, আদালত এই পদ্ধতিতে সিলমোহর দেয় কি না। যদি বায়োমেট্রিক চালু হয়, তবে তা বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে।





