বিশ্বজুড়ে ক্রমাগত বদলে যাচ্ছে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। অশান্তির এই আবহে ভারতের সুরক্ষা নিয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন দেশের বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিং। বুধবার ২২তম সুব্রত মুখোপাধ্যায় সেমিনারে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, কোনো দেশ শুধুমাত্র অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেই সুরক্ষিত থাকতে পারে না; দেশের আসল সুরক্ষা নিশ্চিত করে তার সেনার যুদ্ধ করার ক্ষমতা।
ভেনেজুয়েলা ও ইরাকের উদাহরণে কড়া বার্তা বায়ুসেনা প্রধান তাঁর বক্তব্যে ভেনেজুয়েলা ও ইরাকের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, হাতেগোনা কিছু স্পেশ্যাল ফোর্স নিয়ে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ঢুকে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যেভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তা সেনার সক্ষমতা না থাকারই ফল। তাঁর কথায়, “শক্তি না থাকলে যে কেউ দেশে ঢুকে দখল নিতে পারে। ভারত ও চিন বিশ্বের জিডিপি-র প্রায় ৬০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করলেও, তাদের সুরক্ষার আসল গ্যারান্টি হলো তাদের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী।”
অপারেশন সিঁদুর ও পাকিস্তানের প্রসঙ্গ বায়ুসেনা প্রধান ভারতের শত্রু দেশগুলোকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, পাকিস্তানের মতো পড়শির থেকে যেকোনো সময় আক্রমণ আসতে পারে। তিনি ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রসঙ্গ টেনে ভারতের বায়ুসেনার বিধ্বংসী ক্ষমতার কথা মনে করিয়ে দেন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যেভাবে পাকিস্তানি জঙ্গিদের ডেরা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা বায়ুসেনার সক্ষমতারই পরিচয়। সুদান থেকে ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধারকার্যেও বায়ুসেনার অপরিহার্য ভূমিকার কথা তিনি উল্লেখ করেন।
সেনার আধুনিকীকরণ ও আগামীর প্রস্তুতি অমরপ্রীত সিং কবীরের দোহা উদ্ধৃত করে বলেন, সেনাকে শুধু শক্তিশালী হলেই চলবে না, সেই শক্তি ব্যবহারের সঠিক মানসিকতাও থাকতে হবে। তবেই বিশ্ব ভারতকে সমীহ করবে। যদিও সেনার সরঞ্জাম পেতে দেরি হওয়া নিয়ে কিছুটা উষ্মা প্রকাশ করেছেন তিনি, তবুও তিনি আশাবাদী যে পূর্বসূরী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের দেখানো পথেই ভারতীয় বায়ুসেনা আজ অনেক বেশি আত্মনির্ভর এবং শক্তিশালী। ২০২৫ সালকে তিনি ভারতীয় বায়ুসেনার জন্য এক বিশেষ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।