ভারত কেন ‘উপমহাদেশ’? জানুন সেই অজানাকে, যা ৯৯ শতাংশ মানুষই উত্তর দিতে পারবেন না!

সাধারণত একটি মহাদেশ বলতে যা বোঝায়, ভারত আয়তনে তার থেকে ছোট হলেও এর মধ্যে মহাদেশের প্রায় সব বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। এই কারণেই ভারতকে কেবল একটি দেশ নয়, বরং একটি ‘উপমহাদেশ’ (Sub-continent) হিসেবে অভিহিত করা হয়। এর পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ রয়েছে:

১. প্রাকৃতিক বিচ্ছিন্নতা: ভারতের মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, এটি এশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও প্রাকৃতিকভাবে এটি বিচ্ছিন্ন। উত্তরে দুর্ভেদ্য হিমালয় পর্বতমালা এবং তিন দিকে বিশাল সমুদ্র (আরব সাগর, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর) ভারতকে বাকি এশিয়া থেকে আলাদা করে একটি স্বতন্ত্র ভৌগোলিক একক দান করেছে।

২. বিশাল আয়তন ও বৈচিত্র্য: ভারতের আয়তন এতই বিশাল যে ইউরোপের অনেকগুলো দেশ মিলেও এর সমান হয় না। এখানে মরুভূমি (থর), তুষারপাত (হিমালয়), ঘন জঙ্গল (সুন্দরবন) থেকে শুরু করে মালভূমি ও বিস্তীর্ণ সমভূমি—সবই বর্তমান। একটি মহাদেশে যেমন জলবায়ুর ব্যাপক ভিন্নতা থাকে, ভারতের ক্ষেত্রেও তা হুবহু মিলে যায়।

৩. সাংস্কৃতিক ও নৃতাত্ত্বিক ভিন্নতা: ভারতকে বলা হয় ‘নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর’। এখানে যত ধর্ম, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস এবং সংস্কৃতির মিলন ঘটেছে, তা সাধারণত একটি মহাদেশের ক্ষেত্রেই সম্ভব। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে গেলে ভাষা ও সংস্কৃতি এতটাই বদলে যায় যে মনে হতে পারে আপনি অন্য কোনো দেশে প্রবেশ করেছেন।

এই বিশালতা, প্রাকৃতিক সীমানা এবং বৈচিত্র্যের কারণেই এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ অংশটিকে অর্থাৎ ভারত ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোকে মিলিয়ে বলা হয় ‘ভারতীয় উপমহাদেশ’।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy