সাধারণত একটি মহাদেশ বলতে যা বোঝায়, ভারত আয়তনে তার থেকে ছোট হলেও এর মধ্যে মহাদেশের প্রায় সব বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। এই কারণেই ভারতকে কেবল একটি দেশ নয়, বরং একটি ‘উপমহাদেশ’ (Sub-continent) হিসেবে অভিহিত করা হয়। এর পেছনে প্রধানত তিনটি কারণ রয়েছে:
১. প্রাকৃতিক বিচ্ছিন্নতা: ভারতের মানচিত্রের দিকে তাকালে দেখা যায়, এটি এশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও প্রাকৃতিকভাবে এটি বিচ্ছিন্ন। উত্তরে দুর্ভেদ্য হিমালয় পর্বতমালা এবং তিন দিকে বিশাল সমুদ্র (আরব সাগর, ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগর) ভারতকে বাকি এশিয়া থেকে আলাদা করে একটি স্বতন্ত্র ভৌগোলিক একক দান করেছে।
২. বিশাল আয়তন ও বৈচিত্র্য: ভারতের আয়তন এতই বিশাল যে ইউরোপের অনেকগুলো দেশ মিলেও এর সমান হয় না। এখানে মরুভূমি (থর), তুষারপাত (হিমালয়), ঘন জঙ্গল (সুন্দরবন) থেকে শুরু করে মালভূমি ও বিস্তীর্ণ সমভূমি—সবই বর্তমান। একটি মহাদেশে যেমন জলবায়ুর ব্যাপক ভিন্নতা থাকে, ভারতের ক্ষেত্রেও তা হুবহু মিলে যায়।
৩. সাংস্কৃতিক ও নৃতাত্ত্বিক ভিন্নতা: ভারতকে বলা হয় ‘নৃতাত্ত্বিক জাদুঘর’। এখানে যত ধর্ম, ভাষা, খাদ্যাভ্যাস এবং সংস্কৃতির মিলন ঘটেছে, তা সাধারণত একটি মহাদেশের ক্ষেত্রেই সম্ভব। এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে গেলে ভাষা ও সংস্কৃতি এতটাই বদলে যায় যে মনে হতে পারে আপনি অন্য কোনো দেশে প্রবেশ করেছেন।
এই বিশালতা, প্রাকৃতিক সীমানা এবং বৈচিত্র্যের কারণেই এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণ অংশটিকে অর্থাৎ ভারত ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোকে মিলিয়ে বলা হয় ‘ভারতীয় উপমহাদেশ’।