মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের ডামাডোলের মাঝেই ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তায় বড়সড় উদ্বেগের কালো মেঘ। সমুদ্রপথে ভারতকে সরবরাহের সঙ্কেত দিয়ে রওনা হলেও, মাঝপথে রহস্যজনকভাবে গতিপথ পরিবর্তন করল ইরানের তেলবাহী বিশালাকার ট্যাঙ্কারগুলো। প্রায় ৬ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে এই জাহাজগুলো এখন ভারতের বদলে চিনের দিকে এগোচ্ছে বলে খবর। আন্তর্জাতিক জলপথে এই ‘ইউ-টার্ন’ নিয়ে দানা বাঁধছে নতুন বিতর্ক।
কী ঘটেছিল মাঝপথে? গোয়েন্দা সূত্র ও শিপিং ট্র্যাকার অনুযায়ী, ইরানের এই তেলের ট্যাঙ্কারগুলো যাত্রার শুরুতে গন্তব্য হিসেবে ভারতের নাম নথিভুক্ত করেছিল। ভারতের শোধনাগারগুলোতে এই তেল পৌঁছানোর কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎই:
সিগন্যাল পরিবর্তন: মাঝসমুদ্রে জাহাজগুলো তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যালিং সিস্টেমে গন্তব্য বদলে ‘চিন’ করে দেয়।
চিনা তৎপরতা: অভিযোগ উঠছে, চিন বেশি দাম বা অন্য কোনো কূটনৈতিক চাপে ইরানকে বাধ্য করেছে এই তেলের মুখ ঘুরিয়ে দিতে।
যান্ত্রিক গোলযোগ না কি রাজনীতি: কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির খবর না মেলায় বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর নেপথ্যে রয়েছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ।
ভারতের ওপর প্রভাব: ভারত বর্তমানে জ্বালানি সংকটের মোকাবিলায় রাশিয়ার পাশাপাশি ইরানের ওপরও নজর রাখছিল। ৬ লক্ষ ব্যারেল তেল হাতছাড়া হওয়ার অর্থ হলো: ১. বাজারদরের চাপ: হঠাৎ সরবরাহ কমে গেলে দেশের বাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হতে পারে। ২. বিকল্পের সন্ধান: ভারতকে এখন দ্রুত অন্য কোনো উৎস থেকে এই বিশাল পরিমাণ তেলের জোগান নিশ্চিত করতে হবে।
চিন-ইরান সমীকরণ: ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চিন বরাবরই ইরানের তেলের বড় খদ্দের। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে চিন চাইছে বিশ্ববাজার থেকে যতটা সম্ভব জ্বালানি মজুত করে নিতে। ভারতের দোরগোড়া থেকে তেলের জাহাজ ঘুরে যাওয়াকে দিল্লির কূটনৈতিক মহলে ‘শত্রুতা’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
নয়া দিল্লির পদক্ষেপ: বিদেশ মন্ত্রক এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। ইরান সরকারের সঙ্গে এই বিষয়ে কোনো যান্ত্রিক বিভ্রাট বা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে কি না, তা নিয়ে কথা বলা হতে পারে। তবে ৬ লক্ষ ব্যারেল তেলের এই ‘অন্তর্ধান’ ছাব্বিশের জ্বালানি বাজারে ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল।





