পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ডামাডোলের মাঝেই এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক চাঞ্চল্য! দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে কোনো পেশাদার আইএফএস (IFS) আধিকারিককে নয়, বরং বর্ষীয়ান রাজনীতিক তথা প্রাক্তন রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে (Dinesh Trivedi) বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত (High Commissioner) হিসেবে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। বর্তমান রাষ্ট্রদূত প্রণয় বর্মার স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন তিনি।
কেন এই নিয়োগকে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ বলা হচ্ছে? রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের মতে, এই নিয়োগের পেছনে রয়েছে সুদূরপ্রসারী কৌশল:
বাংলা সংযোগ: দীনেশ ত্রিবেদী আগাগোড়া বাংলার রাজনীতির সাথে যুক্ত। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ওপার বাংলার ভাষা ও সংস্কৃতি বোঝেন এমন কাউকে পাঠানোর মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সহজ করতে চাইছে দিল্লি।
তারেক রহমান সরকারের সাথে সমীকরণ: বাংলাদেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নবগঠিত সরকারের সাথে বিশ্বাসযোগ্যতা ও আস্থার সম্পর্ক তৈরি করতে একজন অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকেই বেশি কার্যকর বলে মনে করছে সাউথ ব্লক।
ভোটের রাজনীতি: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার একজন নেতাকে এমন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পদে বসিয়ে বিজেপি আসলে বাংলার ভোটারদের কাছে এক বিশেষ বার্তা দিতে চাইল।
দীনেশ ত্রিবেদীর সফরনামা: একদা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দীনেশ ত্রিবেদী কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং কূটনীতিতে তাঁর দক্ষতা বরাবরই প্রশংসিত।
কূটনৈতিক গুরুত্ব: সাধারণত প্রতিবেশী দেশগুলিতে পেশাদার কূটনীতিকদেরই পাঠানো হয়। তবে দীনেশ ত্রিবেদীর মতো একজন ‘হেভিওয়েট’ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে ঢাকা পাঠানো প্রমাণ করে যে, বর্তমানে ভারতের কাছে বাংলাদেশ সম্পর্কের গুরুত্ব কতটা অপরিসীম। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কের যে ‘রিসেট’ প্রয়োজন, তাতে ত্রিবেদীর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা নিতে পারে।
উপসংহার: পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ঠিক আগে দীনেশ ত্রিবেদীর এই পদোন্নতি কি বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে কোনো প্রভাব ফেলবে? নাকি বাংলাদেশের সাথে ভারতের ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগাতে তিনি সত্যিই দিল্লির তুরুপের তাস হয়ে উঠবেন? নজর থাকবে সেদিকেই।





