দেশের নিরাপত্তার মানচিত্রে অন্যতম স্পর্শকাতর এলাকা শিলিগুড়ির ‘চিকেনস নেক’ (Chicken’s Neck) বা শিলিগুড়ি করিডর। সেই গুরুত্বপূর্ণ করিডরের কাছাকাছি একটি রহস্যজনক ড্রোনের উপস্থিতি ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। বৃহস্পতিবার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মাত্র দুই কিলোমিটারের মধ্যে এই ড্রোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।
নিরাপত্তার বড় চ্যালেঞ্জ: শিলিগুড়ি করিডর ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ভারতকে সংযুক্ত করে। কৌশলগত দিক থেকে এই এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সীমান্তের কাছাকাছি এই ধরনের ড্রোন উদ্ধার হওয়া দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরণের সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশেষজ্ঞ ও গোয়েন্দারা।
ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন মারফত জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা ড্রোনটিকে দেখতে পান। এরপরই বিএসএফ (BSF) এবং স্থানীয় পুলিশ খবর পেয়ে এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং ড্রোনটিকে উদ্ধার করে। ড্রোনটি কোথা থেকে এলো, এর মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছিল কি না, নাকি এটি কোনো চোরাচালান চক্রের যোগসাজশে ব্যবহার করা হচ্ছিল—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কেন এই ড্রোন ঘিরে বাড়ছে আতঙ্ক?
কৌশলগত গুরুত্ব: চিকেনস নেক করিডর সর্বদা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ও অশুভ শক্তির নিশানায় থাকে।
সীমান্ত সুরক্ষা: সীমান্তের এত কাছে ড্রোন পাওয়া নিরাপত্তা বেষ্টনীতে বড়সড় ফাঁকফোকরের দিকেই আঙুল তুলছে।
গোয়েন্দা নজরদারি: উদ্ধার হওয়া ড্রোনটি থেকে কোনো তথ্য বা ডিজিটাল ডেটা পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর সীমান্তে বিএসএফ-এর টহলদারি বাড়ানো হয়েছে এবং পুরো বিষয়টি কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দাদের জানানো হয়েছে। ড্রোনটি আদতে কোনো বাণিজ্যিক মডেল, নাকি কোনো উন্নত গোয়েন্দা প্রযুক্তি—তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চালাচ্ছে প্রশাসন।
এই ঘটনাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার আতঙ্ক বাড়ছে। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে নিরাপত্তা এজেন্সিগুলো।





