নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে রাজনৈতিক দলগুলির অন্যতম হাতিয়ার এখন ‘ভাতা’। কিন্তু এই ভাতা দেওয়ার হিড়িক কি শেষ পর্যন্ত রাজ্যের অর্থনীতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে? এই প্রশ্ন তুলে এবার সরাসরি রাজনৈতিক দলগুলিকে কড়া বার্তা দিল সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভোটের আগে জনগণকে দেওয়া ‘বিনামূল্যে’ উপহার বা ভাতার প্রতিশ্রুতি সুস্থ গণতন্ত্র এবং অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত। এই ‘ফ্রিবি’ (Freebies) সংস্কৃতি রুখতে আদালতের এই কড়া অবস্থান নিয়ে এখন শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়েছে, জনকল্যাণ আর রাজনৈতিক স্বার্থে খয়রাত বিলানোর মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ফারাক থাকা জরুরি। অনেক রাজ্যই বর্তমানে বিপুল আর্থিক দেনায় ডুবে রয়েছে। ঋণের সুদের কিস্তি মেটাতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা হচ্ছে কোষাগারের, অথচ সেই অবস্থাতেও নতুন নতুন ভাতার ঘোষণা করা হচ্ছে। আদালত প্রশ্ন তুলেছে, যে টাকার কোনো সংস্থান নেই, সেই টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি কি আসলে ভোটারদের প্রতারণা করা নয়? এর ফলে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি অবহেলিত হচ্ছে।
এই মামলায় সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকেও দায়িত্ব নিতে বলেছে। কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভোটের আগে রাজনৈতিক দলগুলি যে আর্থিক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তার কোনো স্বচ্ছ গাইডলাইন তৈরি করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখতে। আদালত সাফ জানিয়েছে, করদাতাদের কষ্টের টাকায় রাজনৈতিক দলগুলি নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করবে—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আসন্ন লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনের আগে শীর্ষ আদালতের এই ‘ভাতা সংস্কৃতি’ বিরোধী অবস্থান পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন রাজ্যের শাসক ও বিরোধী দলগুলির ওপর বড়সড় চাপ তৈরি করল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।