ভয়ঙ্কর অভিযোগ! কোহিনুর মজুমদার-সহ ৩ নেতার বিরুদ্ধে চরম পদক্ষেপ ঘাসফুল শিবিরের

দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো আপস নয়—ফের একবার সেই কড়া বার্তাই দিল তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব। শনিবার সন্ধ্যায় বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দে শোরগোল ফেলে দিয়ে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তিন হেভিওয়েট মুখপাত্রকে ছ’বছরের জন্য সাসপেন্ড করল জোড়াফুল শিবির। তালিকায় রয়েছেন পরিচিত মুখ কোহিনুর মজুমদার-সহ আরও দুজন মুখপাত্র।

তৃণমূলের অন্দরের খবর, গত কয়েকদিন ধরেই এই তিন নেতার বেশ কিছু মন্তব্য এবং কার্যকলাপ দলের অস্বস্তি বাড়াচ্ছিল। প্রকাশ্যে দলের ঘোষিত লাইনের বাইরে গিয়ে মন্তব্য করার পাশাপাশি দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগও উঠেছে তাঁদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নেতৃত্বের নজরে আসতেই শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

তৃণমূল সূত্রের খবর, শুধুমাত্র মৌখিক সতর্কতায় কাজ না হওয়ায় এবার চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিল দল। ছ’বছরের জন্য তাঁদের সাসপেন্ড করার অর্থ হলো, এই দীর্ঘ সময়ে তাঁরা দলের কোনো সাংগঠনিক কাজে অংশ নিতে পারবেন না এবং সংবাদমাধ্যমে তৃণমূলের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত হতে পারবেন না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের অন্দরের ফাটল বা বিদ্রোহকে কোনোভাবেই প্রশ্রয় দিতে রাজি নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আজকের এই কড়া পদক্ষেপ আসলে দলের বাকি নেতা-কর্মীদের জন্য এক প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি বলেই মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, সাসপেন্ড হওয়া কোহিনুর মজুমদার ও বাকি দুই নেতা এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে কোনো পাল্টা পদক্ষেপ নেন কি না।

রাজ্য রাজনীতিতে যখন একের পর এক নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে তৃণমূলের এই ‘ক্লিনিং ড্রাইভ’ নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy