ভবানীপুরে কি নন্দীগ্রামের পুনরাবৃত্তি? মমতা-শুভেন্দুর টক্করে ফুটছে ভোটবাজার; ‘ব্যাটল ফিল্ড’-এ নজর গোটা দেশের!

দক্ষিণ কলকাতার অভিজাত পাড়া থেকে অলিগলি—আজ সর্বত্রই এক ছবি। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন কেন্দ্রিক উত্তেজনা ছাপিয়ে গেল সাধারণ লড়াইকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের ভবানীপুর যেন ২০২১-এর সেই ঐতিহাসিক ‘নন্দীগ্রাম’-এর ছায়া। এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী।

১. ছকভাঙা মমতা, আক্রমণাত্মক শুভেন্দু:

ভোটের সকাল থেকেই চেনা মেজাজে পাওয়া গেল ঘাসফুল শিবিরের নেত্রীকে। বুথে বুথে ঘোরার বদলে নিজের ঘর থেকেই রিমোট কন্ট্রোলে লড়াই পরিচালনা করলেন তিনি। অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী প্রতিটি বুথে কড়া নজরদারি চালিয়েছেন। তাঁর রণকৌশল এবং বারংবার বুথে প্রবেশের চেষ্টা নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। শুভেন্দুর দাবি, “ভবানীপুর এবার পরিবর্তনের পথ দেখাবে,” অন্যদিকে মমতার আত্মবিশ্বাস—”ভবানীপুর নিজের মেয়েকেই চায়।”

২. ছাতা মাথায় জনতার লড়াই:

প্রবল রোদ আর ভ্যাপসা গরমকে উপেক্ষা করেই সকাল থেকে বুথের বাইরে লম্বা লাইন চোখে পড়েছে। যুবক থেকে বৃদ্ধ—কারও হাতে ছাতা, কেউবা রুমাল দিয়ে ঘাম মুছতে মুছতেই পৌঁছে গেছেন ইভিএম-এর সামনে। সুরজিৎ দত্ত ও সুমন বটব্যালের গ্রাউন্ড রিপোর্ট বলছে, দুপুরের দিকেও ভোটারদের লাইনে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের সক্রিয়তা ছিল চোখে পড়ার মতো।

৩. কেন ফিরল নন্দীগ্রামের স্মৃতি?

নন্দীগ্রামের মতো এখানেও প্রতিটি বুথে এজেন্ট বসানো নিয়ে বিবাদ, বুথের বাইরে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ এবং শুভেন্দু অধিকারীর কনভয় ঘিরে বিক্ষোভ—সব মিলিয়ে আজকের ভবানীপুর ছিল কানায় কানায় পূর্ণ ‘ক্লাইম্যাক্স’। বিজেপির অভিযোগ, রাজ্য পুলিশ ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে; পাল্টা তৃণমূলের দাবি, বহিরাগতদের নিয়ে এসে শুভেন্দু অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy